সিলেট নগরীতে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের পরিচয়ে এক কিশোরকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর এবং চালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আরও দুই ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে নগরের মদিনা মার্কেট এলাকার জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মেট্রো-গ-১৩-১৫৪৭ নম্বরের একটি প্রাইভেটকারে থাকা তিন ব্যক্তি আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার ‘রিফাত অ্যান্ড কোম্পানি’ নামের একটি দোকানের সামনে থেকে ইমরান হোসেন (১৯) নামে এক কিশোরকে নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে আটক চালক সামাদ (২৬) সিলেট সদর উপজেলার ছালিয়া এলাকার ময়না মিয়ার ছেলে। তার সঙ্গে থাকা অপর দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিশোর ইমরানকে নিয়ে গাড়িটি সুবিদবাজারের দিকে যাওয়ার সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন মদিনা মার্কেট এলাকায় গাড়িটির গতিরোধ করেন। এ সময় দুই অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও চালক সামাদকে আটক করে গণপিটুনি দেন উত্তেজিত জনতা। পরে প্রাইভেটকারটিও ভাঙচুর করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত চালক সামাদ ও ভিকটিম ইমরান হোসেনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে এসএমপির জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবীব বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে ভিকটিম ও চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে এবং চালক গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পলাতক দুই ব্যক্তিকে নাম পাওয়া গেলেও ঠিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”
