সুনামগঞ্জ

একুশে সিলেটে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযান: ২১ ড্রেজার জব্দ, আটক ৯; অধরা মূল হোতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬ · রাত ১০:১৫ · ১৮০ ভিউ

সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারাবাজার সীমান্তবর্তী সোনালী ও মরা চেলা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ধারাবাহিক আন্দোলন এবং একুশে সিলেটে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযান পরিচালনা করেছে নৌ পুলিশ। অভিযানে ২১টি ড্রেজার মেশিন জব্দ এবং ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিরা মূলত ড্রেজারে কর্মরত শ্রমিক; অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সোনালী ও মরা চেলা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এর ফলে ভয়াবহ নদীভাঙনে বসতঘর, ফসলি জমি, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে এবং অনেক স্থাপনা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

গত সোমবার (৩ আগস্ট) “দোয়ারাবাজারের সোনালী ও মরা চেলা নদীতে সাবেক চেয়ারম্যান রফিকের ড্রেজার ও চাঁদাবাজি বাণিজ্য” শিরোনামে একুশে সিলেটে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এর পরপরই রাতভর অভিযান চালিয়ে নৌ পুলিশ ২১টি ড্রেজার জব্দ এবং ৯ জনকে আটক করে।

তবে এলাকাবাসীর দাবি, অভিযানে যাদের আটক করা হয়েছে তারা মূলত ড্রেজারের শ্রমিক। অবৈধ বালু উত্তোলনের অর্থায়নকারী, নিয়ন্ত্রক এবং কথিত মূল হোতাদের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কেবল শ্রমিকদের আটক করলে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে না। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অর্থদাতা, নিয়ন্ত্রক ও প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে নৌ পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ