সুনামগঞ্জ

মেয়াদ শেষ, টাকা নেই: জামালগঞ্জে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের গ্রাহকদের হাহাকার

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
নিজস্ব প্রতিবেদক · রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬ · রাত ৮:২১ · ১৬২ ভিউ

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহক বীমার মেয়াদ শেষ হওয়ার এক থেকে দেড় বছর পরও তাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। সঞ্চয়ের অর্থ আটকে থাকায় চরম আর্থিক সংকট ও হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, বীমার মেয়াদ পূর্ণ হলে বোনাসসহ আকর্ষণীয় অর্থ ফেরতের আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত প্রিমিয়াম নেওয়া হলেও এখন টাকা ফেরতের সময় নানা অজুহাত দেখানো হচ্ছে। প্রতিদিন জামালগঞ্জ শাখা কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগ করেও মিলছে না কোনো কার্যকর সমাধান।

সরেজমিনে শাখা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, টাকা পাওয়ার আশায় প্রতিদিনই সেখানে ভিড় করছেন বীমা গ্রাহকরা। কেউ চিকিৎসার খরচ মেটাতে, আবার কেউ পারিবারিক প্রয়োজন পূরণে নিজেদের সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত চাইছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মিলছে শুধু আশ্বাস।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মুকাররম হোসেন বলেন, “আমার বীমার মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ হয়েছে। প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো টাকা পাইনি। বারবার অফিসে যোগাযোগ করেও শুধু আশ্বাস পাচ্ছি।”

একই অভিযোগ করেন গ্রাহক ইয়াসমিন আক্তার, মেওয়া বেগম ও কল্পনা আক্তারসহ অনেকে। তারা জানান, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা না পাওয়ায় তারা নিয়মিত অফিসে আসছেন। কিন্তু প্রতিবারই নতুন করে অপেক্ষার কথা বলা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালগঞ্জ উপজেলায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফের প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহকের বীমার মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে কোম্পানির আর্থিক সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অধিকাংশ গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ।

এ বিষয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স জামালগঞ্জ শাখার সাংগঠনিক অফিসার (ইনচার্জ) কামরুল হাসান জিয়া বলেন, “আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কোম্পানি আর্থিক সংকটে পড়েছে। বর্তমানে নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমিত পরিসরে কিছু গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ গ্রাহককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। তবে আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি।”

জেলা জোনাল ইনচার্জ মেহেদি হাসান শরিফ বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছি। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছি। গ্রাহকদের টাকা ছাড়ের জন্য নিয়মিত হেড অফিসে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বিগত সরকারের সময় এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালে কোম্পানির বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর কোম্পানির বিভিন্ন সম্পদ বিক্রির জন্য সরকারের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে টাকা না পাওয়ায় দ্রুত গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সম্পর্কিত সংবাদ