সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব আখড়ার ভূমি দখল, পূজারী (বৈষ্ণব)কে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং মন্দিরের কার্যক্রম বন্ধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে মন্দির পরিচালনা কমিটি। এ ঘটনায় পূজারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত মন্দিরের কার্যক্রম চালুর জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৪টায় জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব আখড়া পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শরদিন্দু দাশ পুরকায়স্থ্য লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
তিনি বলেন, জৈন্তাপুর উপজেলার পূর্বলক্ষীপ্রসাদ মৌজায় অবস্থিত শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব আখড়া একটি প্রাচীন হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন পূজা-অর্চনা বন্ধ থাকার পর ১৯৯৯ সালের শেষ দিকে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পুনরায় দেবসেবা চালুর উদ্যোগ নিলে প্রতিবেশী মতি লাল দাস আদালতে মামলা করেন। পরে আদালত আখড়ার পক্ষে রায় দেন।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে কমিটি দেখতে পায়, একটি খতিয়ানে আখড়াবাড়িসহ প্রায় ১৭ বিঘা জমি জগন্নাথ দেবের নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। তবে বাকি কিছু জমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও পূজারীর নামে ভুলভাবে রেকর্ড হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মামলা নিষ্পত্তির পর মন্দির, পূজারীর বাসস্থান ও পানীয় জলের ব্যবস্থা সম্পন্ন করে গত ১৭ জুন হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর একজন পূজারী (বৈষ্ণব) নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত পূজা-অর্চনা চলছিল।
তাদের অভিযোগ, গত ২ জুলাই দেবোত্তর সম্পত্তির কৃষিজমি চিহ্নিত করতে গেলে বকুল দাস পরিকল্পিতভাবে সংঘর্ষের সৃষ্টি করেন। পরে তিনি বাদী হয়ে পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। এরপর থেকেই পূজারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মন্দির ছেড়ে না গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য হলো দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে ভোগদখল করা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা পূজারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত, মন্দিরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা এবং দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
