সিলেটে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে ‘প্রক্সি’ বা ভুয়া আসামি দাঁড় করিয়ে আদালত থেকে জামিন নেওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত জালিয়াতি মামলায় আইনজীবী হুমায়ুন কবিরের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সিলেটের বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহাদাত হোসেন প্রামাণিক এই আদেশ দেন। এর আগে গত রবিবার এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দশহাল গ্রামের প্রবাসী মো. রফিক মিয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে একটি জালিয়াতির মামলা বিচারাধীন ছিল। আসামি রফিক মিয়া যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও, বিয়ানীবাজারের দিঘলবাক গ্রামের আমিন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে ‘প্রক্সি’ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
আইনজীবী হুমায়ুন কবিরের প্রত্যক্ষ সহায়তায় রফিক মিয়ার পরিবর্তে আমিন উদ্দিন ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তখন তাকে কারাগারে পাঠালে কিছুদিন হাজতবাসের পর ৫ সেপ্টেম্বর তিনি জামিন পান। জামিন লাভের পর কৌঁসুলি হুমায়ুন কবির ও তার সহকারী আইনজীবী জিম্মাদার হয়ে বেইলবন্ড দাখিল করে ভুয়া ওই আসামিকে মুক্ত করেন।
ওই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বাদীপক্ষের আইনজীবী শহীদুজ্জামান চৌধুরী আদালতে আসামি যাচাইয়ের জন্য একটি আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর আদালতকে জানায় যে, কথিত আত্মসমর্পণের সময়ে রফিক মিয়ার দেশে আসা বা যাওয়ার কোনো তথ্য নেই। অর্থাৎ আসামি প্রবাসে অবস্থান করেই জালিয়াতির মাধ্যমে জামিন নিয়েছেন।
জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় সিলেটের তৎকালীন বিভাগীয় স্পেশাল জজ আলী আহমদ বাদী হয়ে ২০ জুলাই একটি মামলা করেন। মামলায় প্রবাসী রফিক মিয়া, প্রক্সি দেওয়া আমিন উদ্দিন, আইনজীবী হুমায়ুন কবির ও সহকারী আইনজীবী মো. জাকারিয়াকে আসামি করা হয়।
সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি আলী হায়দার ফারুক জানান, জালিয়াতির মাধ্যমে জামিন নেওয়ার এই গুরুতর অভিযোগে আইনজীবী হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শহীদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আসামি রফিক মিয়ার নামে যিনি আত্মসমর্পণ করেছিলেন, তাকে দেখে আমার সন্দেহ হয়। বিষয়টি তদন্তের আবেদন করলে জালিয়াতির ঘটনাটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম এহিয়া চৌধুরী সোহেল জানান, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আইন অনুযায়ী এর বিচার প্রক্রিয়া চলবে, তাই এ নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
আইনজীবী কর্তৃক এমন জালিয়াতির ঘটনায় সিলেটের আদালত পাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
