সিলেট

সুরমা ও কুশিয়ারা বিপৎসীমার উপরে, সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার অবনতির শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ · ৭:২৩ পিএম · ২৫১ ভিউ

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান তিন নদী সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, বর্তমানে তিনটি জেলার চারটি পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বুলেটিন অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ৩০ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিনে নদী দুটির পানি আবারও বাড়তে পারে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে বন্যা চলছে, সেখানে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও বেড়েছে। আগামী দুই দিনে এসব নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার ভুগাই, কংস ও সোমেশ্বরী নদী এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতকে উল্লেখ করেছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ের উইলিয়ামনগরে ৩৭১ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ২৭৯ মিলিমিটার, আর কে এম সোহরায় ২৮২ মিলিমিটার, তুরায় ১০১ মিলিমিটার, আসামের গৌহাটিতে ১৩৮ মিলিমিটার এবং পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িতে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া দেশের চট্টগ্রাম বিভাগ ছাড়া প্রায় সব বিভাগেই ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

অন্যদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দুই দিনে এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা, আত্রাই, করতোয়া, পুনর্ভবা, মহানন্দা ও অন্যান্য নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উজানের ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। তাই নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ