সিলেট

নারী মানবপাচারকারী ফাবিয়ার প্রতারনার গল্প

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রতিবেদক · রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০২৪ · ১:৩৫ এএম

একুশে সিলেট ডেস্ক
কোতোয়ালি থানায় ফাবিহা কাদিরের নামে এখন শুধু জিডি আর জিডি। যে মহিলা নিজে এখন প্রায় ১০ কোটি টাকার ঋণগ্রস্থ।

বিদেশ পাঠানোর নামে এই মহিলা সিলেট শহরের বিভিন্ন লোকদের কাছ থেকে , ৭৫ লাখ , ৫০ লাখ এমন নানা এমাউন্টের টাকা নিয়েছে।  সব মিলিয়ে পাওনাদারদের পাওনা টাকার পরিমান প্রায় ১০ কোটি।

তার হাওয়াপাড়াস্থ উইনার এসোসিয়েট অফিসে প্রায় প্রতিদিন পাওনাদেরদের আনাগোনা , বচসা , উত্তেজনা , মারামারি এগুলো এখন নিত্তনৈমত্তিক। পাওনা টাকা চাইতে এসে অনেকেই নির্যাতিত হন।  আগে জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি রাহেল সিরাজ সরাসরি সেল্টার দিতো এই মহিলাকে।  পাওনাদার এলেই রাহেল সিরাজ ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিতো।

বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে ফাবিহা কবিরের অসংখ্য দেনা পাওনার বিচার।

বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় লন্ডন প্রবাসী আমির উদ্দিন উইনার ইনিস্টিটিউটে আসেন।  তার সাথে আসেন তার আত্মীয় লোকমান তালুকদার , নেওয়ার আহমেদ , বাবনা খান ও নিয়াজ আহমেদ। আমির উদ্দিনের স্বজনদের বিদেশ পাঠানোর নাম প্রায় তিনবছর আগে ২৮ লক্ষ টাকা নিয়েছিলো।  বিদেশ আর পাঠাতে পারেনি। পাওনা টাকাও দেয়নি। টাকা চাইতে গেলেই টালবাহানা করে ডেট নেয়।  অনেক বিচার বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার ৬ লক্ষ দেয়ার দিন ধার্য হয়। ধার্যকৃত দিনে পাওনা টাকার ৬ লাখ টাকা আনতে যান আমির উদ্দিন।

যথারীতি এদিন আমির উদ্দিনের সাথে টালবাহানা শুরু করে। টাকা দিতে অপরাগতা জানায়।  শুরু হয় বচসা কথা কাটাকাটি।  এ সময় আগে থেকে নিয়ে আসা রাহেল সিরাজ অনুসারী ক্যাডাররা ফাবিহা কাদিরের পক্ষ নিয়ে আমির উদ্দিন ও তার স্বজনদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে।

বিষয়টি মীমাংসা করতে ছুটে আসেন জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রাহাত চৌধুরী মুন্না।  তিনি এসে দুই পক্ষকেই নিবৃত করেন।  এবং ফাবিহা কাদির কেন পাওনাদারের টাকা দিচ্ছেন না সে বিষয়ে জানতে চান।  এতে ফাবিহা ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় সবার সাথে দুর্ব্যবহার করেন। তার লোকদের লেলিয়ে দেন।

এই ঘটনা নিয়ে কোতোয়ালি থানায় জিডি করেছেন প্রবাসী আমির উদ্দিন। জিডি নং – ১৬০৬ তাং – ১৯۔১০۔২৪ তিনি এই বিষয়টি পুরো দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে খুব শিগ্রীই সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানান।

এদিকে বৃহস্পতিবারের ঘটনা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাহাত চৌধুরী মুন্না।  আমি ঘটনা মীমাংসা করতে গিয়েছি। সেখানে কারো সাথে মারামারি গায়ে হাত তোলার মত ঘটনা ঘটেনি। উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে এমন অসত্য সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে সিলেটের ছাত্ররাজনীতির অহংকার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জেলা শাখার সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক রাহাত চৌধুরী মুন্নাকে নিয়ে অপপ্রচারের বিস্মিত ও উদ্ভেগ প্রকাশ করেছে সিলেটের বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

জেলা ছাত্রদলের যুগ্ন সম্পাদক আব্দুল সামাদ লস্কর মুনিম বলেন – ফাবিহা কাদিরের নামে প্রতারক মহিলা একটি নাটক মঞ্চস্থ করেছে তা সিলেটবাসী বুঝে গেছে।  অসংখ্য মানুষের কোটিকোটি টাকা আত্মসাতকারী এই মহিলা পাওনাদারের টাকা দিতে টালবাহানা করছে এবং তার প্রতারণা ঢাকতে বিএনপির ক্লিন ইমেজ নেতাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে।  অবিলম্বে এই প্রতারক মহিলাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে মানুষের পাওনা টাকা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই।

এই বিষয়ে ফাবিহা কাদিরের বক্তব্য জানতে তার সাথে যোগাযোগ করলে সে মোবাইল রিসিভ করেনি।

সম্পর্কিত সংবাদ