মৌলভীবাজার

কুলাউড়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
নিজস্ব প্রতিবেদক · মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · রাত ৮:৪০ · ২০২ ভিউ

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ শওকতুল ইসলাম শকু বলেছেন, ‘আমরা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কোনো অন্যায়ে বিশ্বাস করি না। আমরা সুশৃঙ্খল রাজনীতিতে বিশ্বাস করি।’

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি আয়োজিত দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালি শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর বক্তব্যের সমালোচনা করে শওকতুল ইসলাম বলেন, তাঁর অশ্রাব্য ভাষায় বক্তব্য দেওয়া সহনীয় নয়। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে একসময় মানুষের কাছে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর নাম নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে।

বিএনপির রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এদেশে যতবারই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বিএনপির নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমার নেতা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এটি সমুন্নত রাখবেন—এটা আমি বিশ্বাস করি এবং সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।’

তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে স্বৈরশাসকের পতনের উদাহরণ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশেও একটি স্বৈরশাসকের সরকারের পতন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শওকতুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ২০২৪-কে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। তাই বলে এই নয়, আমরা ৫২, ৭১ ও ৯০-কে ভুলে যাব।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা আমাদের নয়নমণি। এই স্বাধীনতা আমাদের বিশ্বের দরবারে একটি মানচিত্র উপহার দিয়েছে, জাতি হিসেবে আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং বাংলাদেশি হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিতি দিয়েছে। এর ওপরে কোনো কিছু যেতে পারে না।’

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রসঙ্গে তিনি দলটির নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা ও বাকশাল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়েও কথা বলা উচিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে শওকতুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ৬৯ বছর বয়সে পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্রপ্রধানকে দেখেছি, কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতো দেখিনি। তিনি দেশের জন্য এত কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন।’

তিনি আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। সরকারের প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে বলেও তিনি জানান।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল জামালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজলের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক আহ্বায়ক রেদওয়ান খান, সাবেক সহ-সভাপতি এস এম জামান মতিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরী, সাবেক সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান মনির, আলমগীর হোসেন ভুঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কমর উদ্দিন আহমদ কমরু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ময়নুল হক বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুক্তাদির মনু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুফিয়ান আহমদ, আব্দুল মুক্তাদির মুক্তার, দেলোয়ার হোসেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা নজরুল ইসলাম খান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জুবের আহমদ খান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার আহমদ নিপার, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মুহিত বাবলু, পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুসা আহমদ সুয়েট, যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম রাজন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রেজাউল আলম ভুঁইয়া খোকন, সদস্য সচিব গিয়াস মোল্লা, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমদ টিপু, সদস্য সচিব সাইফুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তানজিল হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক এবং কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান টিপু।

এর আগে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কুলাউড়া শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে সকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং উপজেলা পর্যায়ের প্রয়াত নেতৃবৃন্দের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ