সিলেট

‘জেলা মন্ত্রী’ নিয়ে বিতর্ক, সমন্বয়হীনতার শঙ্কা নেই: মুক্তাদির

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · সন্ধ্যা ৭:৫০ · ১৩৬ ভিউ

জেলা পর্যায়ে মন্ত্রী-এমপিদের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় কোনো ধরনের সমন্বয়হীনতা তৈরি হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির।

মঙ্গলবার সিলেটে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি সমন্বয়হীনতা তো করবেই না, বরং দলীয় সাংগঠনিক অবস্থানটাকে একটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যেক জায়গায় দেখার, যাচাই করার এবং দলীয় শক্তির বিন্যাসের জন্য নতুন উদ্যম সংযোজন করবে।’

গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার মুক্তাদিরকে হবিগঞ্জ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর সিলেট জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন হবিগঞ্জের সংসদ সদস্য ও হুইপ জিকে গউছ।

জেলাভিত্তিক এই দায়িত্ব বণ্টনকে অনেকে ভিন্ন নামে উচ্চ আদালত থেকে অসাংবিধানিক ঘোষিত ‘জেলা মন্ত্রী’ ব্যবস্থা ফিরে আসা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ নিয়ে সমন্বয়হীনতার শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। উদ্যোগটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জামায়াতের ১১ সংসদ সদস্য হাইকোর্টে রিটও করেছেন।

তবে সমন্বয়হীনতার শঙ্কা নাকচ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে যেখানে কাজ করবেন, তারাই দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। দল একটি পরিকল্পনা ও কৌশল সামনে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন জনকে দায়িত্ব দিয়েছে।’

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নগরের কাজিরবাজারে নিজ বাসায় সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পতাকা উত্তোলন ও ফিতা কেটে কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

দেশের আমদানি-রপ্তানি প্রসঙ্গে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে আমদানি বেশি এবং রপ্তানি কম। বাংলাদেশে পর্যাপ্ত কাঁচামাল উৎপাদিত না হওয়ায় শিল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাঁচামালের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয়।

তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন গম আমদানি করতে হয়। তবে চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ ছাড়া আগে যেসব কৃষিপণ্যের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হতো, সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রেই ইতোমধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘এটি কোনো অভিনব বিষয় নয়। পৃথিবীর বহু দেশেই আমদানি বেশি, রপ্তানি কম। আবার কিছু দেশে রপ্তানি বেশি, আমদানি কম। আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানো তুলনামূলকভাবে সহজসাধ্য বিষয় নয়।’

তবে ট্রেড ভলিউম বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আনা এবং রপ্তানির নতুন নতুন খাত চিহ্নিত করে সেখানে রপ্তানি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘এগুলো নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ কাজের ফলাফল-সুফল ইনশাআল্লাহ আপনারা দেখতে পাবেন।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের সামনে উদযাপনের সময় নেই, সামনে এখন দেশগঠনের চ্যালেঞ্জ।’

তিনি বলেন, আগামী দিনে সরকারের লক্ষ্য হলো মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করা। জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনাসহ বিদ্যমান লজিস্টিক সমস্যাগুলো দূর করে দেশে-বিদেশে ব্যাপক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনীতির যেসব খাত দেশজ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সেগুলোর প্রতিটি খাতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করছে।

অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত সংবাদ