সিলেট

প্রেমের সম্পর্ক ভাঙার শঙ্কা, সিলেটে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন হত্যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬ · রাত ৮:৪৫ · ১৮৫ ভিউ

সিলেট নগরীর শাহপরাণ এলাকায় ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন (৬৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা এবং তৃতীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে কথাবার্তা নিয়ে তৈরি হওয়া সন্দেহ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম।

বৃহস্পতিবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি এসব তথ্য জানান।

পুলিশ কমিশনার বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার জালাল (৩৫) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জালালের সঙ্গে রেহানা পারভীন নামের এক নারীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাঁদের বিয়ের কথাও চলছিল। তবে প্রায় তিন মাস ধরে বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল।

এই অনিশ্চয়তার মধ্যে জালালের সন্দেহ হয়, রেহানা তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে রেহানার নিয়মিত কথাবার্তা ও হাসিঠাট্টা হতো জানতে পেরে জালাল সন্দেহ করেন, তাঁদের মধ্যে অন্য কোনো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে কি না। এ সন্দেহ থেকেই শাহাব উদ্দিনকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানান পুলিশ কমিশনার।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা এ ধারণায় পৌঁছেছেন। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত রোববার দিবাগত রাতে শাহাব উদ্দিনকে তাঁর বাসার কাছ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্বজনেরা। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর ছোট ছেলে রেদোয়ান আহমদ জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বাবাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। শাহাব উদ্দিনের ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের তিনটি আঘাতের চিহ্ন ছিল।

নিহত শাহাব উদ্দিন বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে শাহপরাণ এলাকায় বসবাস করতেন। চারখাই বাজারে তাঁর ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা ছিল। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা। তাঁর এক ছেলে ফ্রান্সে বসবাস করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল বলে তাঁদের জানা ছিল না।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শাহপরাণ মাজার এলাকা থেকে জালালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার দুপুরে শাহাব উদ্দিনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাদ আসর জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ