সিলেট

৩ মাসে সিলেটের সীমান্তে ৫৭ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬ · রাত ১২:৩৪ · ১৫৭ ভিউ

সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত তিন মাসে ৫৭ কোটি টাকার বেশি ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে ১০ হাজারের বেশি ভারতীয় মদ এবং ২ হাজার ২৬০টি গরু-মহিষ রয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিজিবির অধিনায়ক বলেন, চোরাচালানের রুট পরিবর্তনের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় ‘মব’ ঠেকানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারী ট্রাক আটকালে একদল লোক মব সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা করে ট্রাক ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ করে সমস্যা সৃষ্টি করে। মব ঠেকানো এখন বড় একটি কনসার্ন। তারা মব সৃষ্টি করে অবৈধ জিনিসকে বৈধ করতে চায়। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেমন আক্রমণের শিকার হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও দুর্ভোগে পড়ছেন।”

বিজিবি জানায়, গত তিন মাসে সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৭ কোটি টাকার বেশি ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ১০ হাজারের বেশি ভারতীয় মদ এবং ২ হাজার ২৬০টি গরু-মহিষ জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় ৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৫ আগস্ট) ও রোববার (১৬ আগস্ট) দুই দিন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়।

অভিযানে ভারতীয় জিরা, চা-পাতা, ফুচকা, শাড়ি, কম্বল, মদ ও বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। বিজিবির হিসাবে, দুই দিনে জব্দ করা এসব পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

বিজিবি জানায়, জব্দ করা পণ্যগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় অভিযানের সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক, বিজিওএম বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা ও আভিযানিক কার্যক্রম সর্বাত্মকভাবে অব্যাহত থাকবে। জব্দ করা চোরাচালানি পণ্যের বিষয়ে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ