বিস্তীর্ণ হাওরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া সুনামগঞ্জের ‘চেলা’ ও ‘মরা চেলা’ নদী বালু মাফিয়ার থাবায় এখন রীতিমতো মৃত্যুকূপে পরিণত। ইজারার আড়ালে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও আইনের তোয়াক্কা না করে নদী, পরিবেশ এবং লোকালয় গ্রাসের মহা-লুটপাট ও তাণ্ডব শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় অবস্থিত নদী দুটির অবস্থা খুবই করুণ।
ইজারা নেওয়া বালুমহালকে পুঁজি করে নিষিদ্ধ ৮ ও ১০ ইঞ্চির শক্তিশালী ড্রেজার এবং লিস্টার মেশিনের বিকট গর্জনে দিন-রাত কাঁপছে পুরো এলাকা। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে নদীর তলদেশ গভীর থেকে গভীরতর করে কাটার ফলে নদীতীর, আবাদি কৃষিজমি, স্থানীয়দের বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম।
এভাবে সরকারি নির্ধারিত ইজারা সীমানার তোয়াক্কা না করে ইজারাবহির্ভূত এলাকা থেকে দিন-রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং নদীপথে চলাচলকারী সাধারণ নৌযান থেকে ঘনফুটে ১২ টাকা করে জোরপূর্বক ‘কথিত রয়্যালটি’ আদায়ের নামে হাওরপাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে সমান্তরাল মাফিয়া সাম্রাজ্য। শুধু তা-ই নয়, ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে গভীর রাতে নৌকাযোগে অবৈধভাবে বালু এনে তা পরিবহনের সুযোগ করে দেওয়ারও মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে সীমান্তপথ দিয়ে রাতের আঁধারে এই বালু আনার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু জানার পরও তা বন্ধে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না বা হচ্ছে না।
নথি ও সরকারি চালানে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার ১৩ এপ্রিল স্মারক নথি অনুযায়ী ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ‘চেলা নদী ও মরা চেলা নদী’ বালুমহালটি বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত এক বছরের জন্য ইজারা প্রদান করা হয়। সরকারি ওই নথিতে বালুমহালটির মোট আয়তন ৫৬৬ দশমিক ৭ একর উল্লেখ করা হয়। ইজারামূল্য ১৩ কোটি টাকা এবং ভ্যাট-ট্যাক্স ও জামানতসহ সর্বমোট ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ইজারাটি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা শাহ সামছুল ইসলাম ও মোছা. মেহেরুন নেছার ছেলে শাহ রুবেল আহমদের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জিনান এন্টারপ্রাইজ’-এর অনুকূলে প্রদান করা হয়।
কিন্তু সরকারি এই চালান ও আইনি নথির আড়ালে সরেজমিন যে চিত্র দেখা গেছে, তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারি চালানের তোয়াক্কা না করে মূল ইজারাদার শাহ রুবেল আহমদ এবং তার সহযোগীদের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ইজারাবহির্ভূত এলাকা থেকে বালু লুটে নেওয়া হচ্ছে। সরকারি রেভিনিউ নথির ইজারা তপশিল অনুযায়ী ছাতক উপজেলার ৭টি মৌজা- পাড়ারপুঞ্জি এলাকার ৪২৯.৪৯ একর, ফকির টিলায় ৪৫.৫২ একর, রাজেন্দ্রপুরে ৩৮.৪৯ একর, ইসলামপুরে ১৫.৯৪ একর, গোয়ালগাঁওয়ে ৮.৭০ একর, গণেশপুরে ৩০.৫২ একর, সৈদাবাদে ৮.৩৭ একর এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ২টি মৌজা- মাঝিমপুরে ১০৪.৪৬ একর ও শ্রীপুর ২২.১২ একরসহ মোট ৯টি মৌজায় ৫৬৬ দশমিক ০৭ একর এলাকা বালুমহাল হিসেবে নির্ধারিত ছিল।
কিন্তু সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, সরকারি নথির এই তপশিলকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইজারাবহির্ভূত এলাকাতেও চলছে বালুদস্যুতা। স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি তপশিলে নাম না থাকা ছাতক উপজেলার কাজিরগাঁও, আলমপুর, দারোগাখালী, কলাবাগান, চেলা নদী ও গেদুরঢালা এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর, পূর্ব সোনাপুর, সারপিনপাড়া ও হাবিবনগর এলাকার বিভিন্ন সরকারি স্থান, নদীর তীর এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা থেকেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
অভিযোগে প্রকাশ, কোম্পানীগঞ্জের জিয়াদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী, দোয়ারাবাজারের মৃত বদরুল আলমের ছেলে রফিকুল ইসলাম ও ছাতকের বাসিন্দা কামরুলসহ তাদের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট গত ২ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে দিন-রাত গভীর গর্ত করে ও নিষিদ্ধ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে এসব এলাকা থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। যার কোনো বৈধ অনুমতি প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়নি।
জাতীয় নদী রক্ষা আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণ নীতি অনুযায়ী বালুমহালে ভারি ড্রেজিং বা যান্ত্রিক উপায়ে নদীর তলদেশ কুরে বালু তোলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হলেও চেলা ও মরা চেলা নদীতে দিন-রাতে প্রকাশ্যে চলছে ৮ ও ১০ ইঞ্চির শক্তিশালী ড্রেজার ও লিস্টার মেশিনের দৌরাত্ম্য। বিশেষ করে রাতের আঁধারে জেনারেটরের শক্তিশালী আলো জ্বালিয়ে বিকট শব্দে নদীটির তলদেশ কেটে বালু তোলার ফলে আশপাশের স্বাভাবিক ভূপ্রকৃতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
লোকালয়ের একেবারে কাছাকাছি এলাকা থেকে শুরু করে কৃষিজমি পর্যন্ত ড্রেজিংয়ের আওতায় নিয়ে আসায় ছাতক সদর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বাউসা ও কেশবপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীভাঙনে ইতিমধ্যে বহু বসতবাড়ি, ভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে এবং বাকি এলাকাগুলোও এখন চূড়ান্ত বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে অনুসন্ধানকালে হাতে লেখা বালু বাণিজ্যের একাধিক গোপনীয় মাসিক চাঁদার একাধিক হিসাব তালিকা পায় দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ। সেখানে দেখা যায়, অবৈধ এই বালুবাণিজ্য নির্বিঘ্নে টিকিয়ে রাখতে ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ এড়াতে প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের টাকা নির্দিষ্ট খাতগুলোতে মাসোহারা হিসেবে বণ্টন করা হতো।
তালিকার তথ্য মতে, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমকেও মাসোহারা দিয়ে ম্যানেজ করার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে এই ইজারার আড়ালে গড়ে তোলা আরও একটি চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো নদীর বুকে উন্মুক্ত তোলাবাজির নয়া কৌশল- প্রতি ঘনফুটে কথিত ১২ থেকে ১৪ টাকা পর্যন্ত ‘রয়্যালটি’ বা চাঁদা আদায়। স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী ও নৌযানচালক সূত্র জানায়, ইজারাকৃত সীমানার বাইরে কিংবা সাধারণ মানুষের নিজস্ব মালিকানাধীন জমি থেকে উত্তোলিত বালুও যখন চেলা নদীর রুট দিয়ে অন্য কোনো গন্তব্যে পরিবহন করা হয়, তখন প্রতিটি বালুবাহী বলগেট ও নৌযান আটকে জোরপূর্বক প্রতি ঘনফুটে ১২ থেকে ১৪ টাকা হারে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এই চক্রটি এ অর্থকে ‘রয়্যালটি’ হিসেবে দাবি করলেও সরকারি কোনো নিয়মে বা ইজারা নথিতে ইজারার সীমানার বাইরের বালুর ওপর কিংবা নিজস্ব জায়গায় উত্তোলিত বালুর ওপর অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। সরকারি কোনো রসিদ, মেমো বা চালান ছাড়াই প্রতিদিন সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকার এই অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যার কোনো সরকারি হিসাব রাজকোষে জমা পড়ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
বালুখেকো চক্রের এমন বেপরোয়া থাবা থেকে বাদ পড়েনি সরকার সংরক্ষিত বনভূমিও। ইজারাকৃত নির্ধারিত এলাকার বহু বাইরে থাকা ছাতক বন বিভাগের অধীন সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও জমি থেকে রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার তথ্য পাওয়া গেছে। বনভূমির সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় ছাতক বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বন রেঞ্জ কর্মকর্তা কে বি এম ফেরদৌস জানান, বন বিভাগের নিজস্ব জমি ও সংরক্ষিত বনভূমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে তারা নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টের অপরাধে ইতিমধ্যে কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে। বনাঞ্চলের জমি থেকে অনুমতি ছাড়া বা অবৈধভাবে বালু তোলার কোনো অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া গেলে তদন্ত করে বন আইনের অধীনে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, পরিবেশ বিপর্যয় ও অবৈধ ড্রেজিংয়ের বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপসহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, চেলা নদী ও মরা চেলা নদী জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া হলেও এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কোনো অনুমতি দেয়নি। অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন, ইউএনও ও ভূমি প্রশাসন বক্তব্য দিতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ২৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছে। এ ছাড়া চৈলতারডাল এলাকায় অভিযানও পরিচালনা করা হয়।
মো. মোহাইমিনুল হক আরও স্পষ্ট করে বলেন, কলাবাগান ও কাজিরগাঁও এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অনুমতি পরিবেশ অধিদপ্তর দেয়নি। বালুমহাল পরিচালনা ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সরাসরি অভিযান বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার এখতিয়ার পরিবেশ অধিদপ্তরের নেই। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি প্রশাসন অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারে। বালুমহালের বিষয়টি মূলত ভূমি প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।
তিনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হলে পরিবেশ অধিদপ্তর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। এ পর্যন্ত এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাওরাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদীর প্রবাহ এবং নদীতীরের লোকালয় রক্ষায় এ ঘটনায় দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর গ্রামের মো. নাইব আলীর ছেলে মকবুল মিয়া অতিসম্প্রতি সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের অনুলিপি অবগতির ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল), ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি), স্থানীয় থানা পুলিশ ও ছাতক নৌ-পুলিশ ফাঁড়িসহ সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৩টি সরকারি দপ্তরে পাঠানো হয়।
একই দাবিতে ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে ‘ছাতক বাজার একতা বালু উত্তোলন ও সরবরাহকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’। ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ওই আবেদনে সমিতির সভাপতি মো. আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক মো. দিলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, চেলা নদীর শাখা চৈলতার ঢালা, চেলাগাং, কলাবাগান ও হাদাটিলা এলাকায় রাত ৮টা থেকে ভোর পর্যন্ত রাতের আঁধারে অবৈধ ড্রেজার ও ‘বোমা মেশিন’ দিয়ে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ও তীরবর্তী ফসলি জমি তীব্র ভাঙনের মুখে পড়ছে।
এতে করে সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করা শত শত সাধারণ বারকি শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম জীবন-জীবিকার সংকটে পড়েছেন। আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, গত ২১ জুলাই পরিবেশ অধিদপ্তর অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ২৬ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় মামলা করলেও বাস্তবে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। তাই অবৈধ ড্রেজার ও ‘বোমা মেশিন’ দ্রুত জব্দ করা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে পুলিশ, বিজিবি ও নৌ-পুলিশের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী রাত্রিকালীন যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে আন্দোলন এবং প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনকে পুরো বিষয়টি একাধিকবার লিখিত কিংবা মৌখিকভাবে অবহিত করার পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় চরম হতাশ স্থানীয় বাসিন্দারা। ইজারা সীমানা লঙ্ঘন, নিষিদ্ধ ড্রেজার ব্যবহার এবং অবৈধ রয়্যালটি আদায়ের বিষয়ে ছাতক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোজাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য না দিয়ে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা কোনো কিছু বলতে পারব না। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এ বিষয়ে বলতে পারবে।’
অন্যদিকে একই প্রশাসনিক বিষয়ে জানতে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জরুরি কাজে সিলেটে মিটিংয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে পুরো বিষয়টি সহকারী কমিশনারের (ভূমি) ওপর ঠেলে দিয়ে এড়িয়ে যান। দায়িত্বরত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এমন উদাসীন ও দায়সারা আচরণে নানা সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ইজারাদার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার হাজী জিয়াদ আলীর ছেলে মো. সাখওয়াত বলেন, আমি সোনালী চেলা নদীতে ড্রেজার মেশিন চালিয়েছি। অভিযান ও মামলা হওয়ার পর ড্রেজার মেশিন চালানো বন্ধ করে দিয়েছি। বালু উত্তোলনের সীমানা থেকেই আমরা বালু তুলছি। তিনি রয়্যালটির ব্যাপারে বলেন, এ বিষয়ে আমরা জানি না।
