চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলা নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি না করার জন্য মামলার বাদী ও সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুমকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকি বার্তায় সতর্ক করে বলা হয়, মামলা নিয়ে বেশি দূর এগোলে সালমানের ভাই শাহরানকেও একইভাবে হত্যা করা হবে।
গত ১২ জুলাই ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে এই হুমকির বিষয়টি প্রকাশ করেন আলমগীর কুমকুম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া একটি হুমকির স্ক্রিনশটও প্রদর্শন করেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে আলমগীর কুমকুম জানান, সালমান শাহর ভক্ত মামুন নামক এক ব্যক্তি ফেসবুকে সালমান ভক্তদের নিয়ে মানববন্ধনের আহ্বান জানাতে লাইভ করছিলেন।
ওই লাইভ চলাকালীন ‘শাকিল কিবরিয়া (Shakil Kibria)’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে কমেন্টে এই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে মুছে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে মামলাটির মূল কেন্দ্রস্থল রমনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। সালমান ভক্ত মামুনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এই হুমকির সঠিক তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে একই দিনে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে মামলার আসামি অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
ডনের পক্ষে আইনজীবী তারিকুল ইসলাম জুয়েল জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষের ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী তার তীব্র বিরোধিতা করেন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। উল্লেখ্য, গত রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে জনপ্রিয় এই নায়কের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা হলেও পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে তা হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়।
দীর্ঘ সময় পর গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই আলমগীর কুমকুম সামিরা হক, আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জন এবং কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে এই পরিকল্পিত হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
আদালত ৩০ আগস্টের মধ্যে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
