সিলেট

টিলাগড়ে এমসি কলেজ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ · ১২:৪৩ এএম · ১৮৬ ভিউ

সিলেট নগরীর টিলাগড়-বালুচর রুটে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া হঠাৎ দ্বিগুণ করার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ৮টার দিকে কলেজের ছাত্রাবাসের সামনে টিলাগড়-আম্বরখানা সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন চালকেরা।

জানা গেছে, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা বা যৌক্তিক কারণ ছাড়াই টিলাগড় পয়েন্ট থেকে বালুচর পয়েন্ট পর্যন্ত অটোরিকশা ভাড়া ৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে চালকেরা বর্ধিত ভাড়া দাবি করলে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে রাত ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে ছাত্রাবাসের সামনের মূল সড়কে অবস্থান নেন।
অবরোধ চলাকালে টিলাগড়-আম্বরখানা সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা দুর্ভোগে পড়েন। খবর পেয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী তারেক জানান, প্রতিদিন এই পথে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন। কোনো আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ ভাড়া ৫ টাকার জায়গায় ১০ টাকা করা হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ। তাই আমরা বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছি।

আরেক শিক্ষার্থী আবির বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে চালকদের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে আগের ভাড়ায় (৫ টাকা) যাত্রী পরিবহনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরপর আমরা অবরোধ তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে ফিরে আসি।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিঞ্চার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভাড়া বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে এমসি কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থী ও চালক উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে। আলোচনার ভিত্তিতে চালকেরা আগের ভাড়ায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকার পর রাত ৯টার দিকে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়। শিক্ষার্থীদের এমন দ্রুত ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের ফলে সাধারণ যাত্রীরাও বাড়তি ভাড়ার বোঝা থেকে রেহাই পেয়েছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ