একটি ফোন কল পাল্টে দিল বিপদে পড়া দুটি মানুষের জীবন। একদিকে পাচারকারীদের অন্ধকার ছক, অন্যদিকে ৯৯৯-এর তৎপরতা ও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর অভিযানের সাক্ষী হলো সিলেটের গোয়াইনঘাট।
ঘটনার শুরু গোয়াইনঘাটের ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা নলজুরি বাজারে। সেখানে জনৈক নাসিম উদ্দিন ভূট্টোর বসতঘরটি ছিল একটি মরণফাঁদ। সেই ঘরেই আটকে রাখা হয়েছিল সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে আসা ১৮ বছর বয়সী সুমাইয়া আক্তার ও ১৯ বছর বয়সী আয়াত উল্লাহকে। তাঁদের স্বপ্নগুলো পাচারকারীদের শিকলে বন্দি হতে চলেছিল।
কিন্তু বিধাতা হয়তো অন্য কিছু লিখেছিলেন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ একটি গোপন সংবাদের মাধ্যমে পুলিশের কাছে খবর আসে, একটি বাড়িতে কয়েকজনকে আটকে রেখে পাচারের প্রস্তুতি চলছে। খবরটি পাওয়ামাত্রই নড়েচড়ে বসে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুকের তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় এএসআই (নিরস্ত্র) মিঠু চৌধুরী একদল চৌকস পুলিশ সদস্য নিয়ে অভিযানে নামেন।
পুলিশ যখন নলজুরি বাজারের উত্তর পাশে সেই গোপন আস্তানায় পৌঁছায়, তখন সেখানে রীতিমতো আতঙ্ক বিরাজ করছিল। পুলিশের দ্রুত ও সাহসী হস্তক্ষেপে উদ্ধার করা হয় সুমাইয়া ও আয়াত উল্লাহকে। সেই সঙ্গে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় পাচারচক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানার বাসিন্দা মো. রুয়েল আহমদ (২২) এবং স্থানীয় নাসিম উদ্দিন ভূট্টোর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (৩০)। পাচারকারীদের এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সহজ-সরল মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় ভিকটিম সুমাইয়ার স্বামী মো. স্বপন মিয়া বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ এর অধীনে মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) মো. ওমর ফারুক মোড়ল এই সফল অভিযান প্রসঙ্গে বলেন, আমরা সংবাদ পাওয়ার পরপরই এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করিনি। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ভিকটিমদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা। অপরাধীদের দমনে পুলিশ সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
অন্ধকার গলি থেকে আলোর পথে ফেরা সুমাইয়া ও আয়াত উল্লাহর চোখে এখন স্বস্তির ছাপ। ৯৯৯-এর একটি সচেতন ফোন আর পুলিশের তৎপরতা না থাকলে হয়তো তাঁদের শেষ ঠিকানা হতো অন্য কোনো দেশে, অজানা কোনো অন্ধকার ভবিষ্যতে। গোয়াইনঘাট পুলিশের এই অভিযান এলাকায় সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ও বিশ্বাসের জায়গা আরও সুদৃঢ় করেছে।
