সিলেট

সীমান্তের অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা, তিন সপ্তাহ সময় দিলেন শ্রমমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রতিবেদক · বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ · ১:০০ এএম · ১৭৪ ভিউ

জৈন্তাপুরকে মাদক, চোরাচালান এবং সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডমুক্ত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার জামিয়া আরাবিয়া দারুল হাদিস ইমদাদুল উলুম লামনীগ্রাম মাদ্রাসায় সফরকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সফরের শুরুতে মন্ত্রী মাদ্রাসার সদ্যপ্রয়াত মুহতামিম মরহুম মাওলানা আব্দুল জব্বার (রহ.)-এর কবর জিয়ারত করেন। পরে মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলায় মরহুমের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও ‘জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা শায়খ হিলাল আহমেদ হরিপুরী, আল্লামা শায়খ আলিম উদ্দিন দূর্লভপুরী, মাওলানা শরীফ উদ্দিন বরবন্দী, মাওলানা আহমেদ আলী শায়খে চিল্লাসহ স্থানীয় আলেম-উলামা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও মুসল্লিরা।

পরে বিকেল ৫টায় মাদ্রাসার নিচতলার সভাকক্ষে উপজেলার সুধীজনদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রী। সভায় জৈন্তাপুরে মাদক নির্মূল, চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ, সরকারি কাজে মব সৃষ্টি করে বাধা প্রদান, মহাসড়ক অবরোধের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ এবং সীমান্তবর্তী বাজারে অবৈধ ভারতীয় পশু বিক্রি বন্ধে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, “জৈন্তাপুরকে মাদকমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে। আটক মাদকসেবী বা মাদক কারবারির পক্ষে যে-ই সুপারিশ করুক, তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।”

তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশের কারণে দেশের অর্থনীতি ও আগামী প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গভীর রাতে অবৈধ পণ্যবাহী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে সাধারণ মানুষের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন এবং পরিবহন অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিতে গেলে একটি মহল মব সৃষ্টি করে রাস্তা অবরোধের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন বাজার, পাড়া-মহল্লায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক ব্যক্তিদের সমন্বয়ে জনসচেতনতামূলক সভা আয়োজনের আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে আগামী ১ আগস্ট থেকে মাদক, চোরাচালান এবং অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছাড়াই তিনি নিজেই মাঠে নেমে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নেতৃত্ব দেবেন।

সভায় ৪ নম্বর দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার বন্ধ থাকা পাথর কোয়ারি সনাতন পদ্ধতিতে চালু এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে প্রশ্ন করলে মন্ত্রী বলেন, এটি তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার। আগামী ১৯ জুলাই এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রীর ঘোষিত তিন সপ্তাহের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বক্তব্য রাখেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) পিংকি সাহা, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক, সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক (এডি) মুহীদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুনন্দা রায়, জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজি আবদুর রশিদ।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রীর একান্ত সচিব বিজন কুমার সিংহ, সহকারী পুলিশ সুপার (কানাইঘাট সার্কেল) সালমান নূর আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ পলি রানী দেব, ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম, জেলা তাঁতী দলের সাবেক সদস্য সচিব আলতাফ হোসেন বিলাল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউপি সদস্য, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ, বালুমহাল ও হাট ইজারাদার, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব, জৈন্তাপুর অনলাইন প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সম্পর্কিত সংবাদ