ফের মেসিময় ম্যাচ, নকআউটে আর্জেন্টিনা

ফের মেসিময় ম্যাচ, নকআউটে আর্জেন্টিনা

একুশে স্পোর্টস

শুরুটা ছিল হতাশার, শেষটা ইতিহাসের। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিস করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন লিওনেল মেসি। তবে সেই আক্ষেপ বেশিক্ষণ টিকতে দেননি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। জোড়া গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসার পাশাপাশি দলকে ২-০ ব্যবধানে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয় এনে দিয়েছেন তিনি। টানা দ্বিতীয় জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউটে নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। লাউতারো মার্টিনেজ বক্সে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে শ্লাগার ও পশের চ্যালেঞ্জের মুখে ডি-বক্সের ভেতরে পড়ে যান তিনি।

প্রথমে রেফারি পেনাল্টি দেননি। পরে ভিএআর স্ক্রিনে ঘটনাটি পর্যালোচনা করতে যান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিনি পেনাল্টির নির্দেশ দেন।

অষ্টম মিনিটে শট নিতে এগিয়ে যান মেসি। গোল করতে পারলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যেতেন তিনি। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে বল পোস্টের ডান পাশ দিয়ে বাইরে মেরে দেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। গোলরক্ষক সঠিক দিক অনুমান করলেও তাকে কোনো সেভ করতে হয়নি।

২১ মিনিটে আবারও সুযোগ তৈরি করেন মেসি। কাট-ইন করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়লেও ডেভিড আলাবা পেছন থেকে বল স্পর্শ করে দেন। তাতে বল গোলরক্ষক আলেক্সান্ডার শ্লাগারের গায়ে লেগে বিপদমুক্ত হয়। হাইড্রেশন ব্রেকের আগ পর্যন্ত হতাশাই সঙ্গী ছিল আর্জেন্টিনার।

৩৩ মিনিটে গোলের আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ আসে। এনজো ফের্নান্দেসের উদ্দেশে বাড়ানো পাস এগিয়ে এসে আটকে দেন শ্লাগার। তবে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তা সরাসরি মেসির পায়ে তুলে দেন। ফাঁকা পোস্ট লক্ষ্য করে মেসি শট নিলেও আলাবা গোললাইন থেকে নিশ্চিত গোল রুখে দেন।

তবে ৩৮ মিনিটে আসে সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত।

বাম দিক থেকে আক্রমণের সূচনা করেন মেসি নিজেই। এরপর পেনাল্টি বক্সের প্রান্ত থেকে নেওয়া নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন পোস্টের নিচের বাম কোণে। বিশ্বকাপে নিজের ১৭তম গোল করে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলেন তিনি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনাকেও এনে দেন কাঙ্ক্ষিত লিড।

মেসির সেই ঐতিহাসিক গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আলবিসেলেস্তেরা।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে আর্জেন্টিনা। ৬৩ মিনিটে ফের্নান্দেসের জোরালো শট অস্ট্রিয়ার এক ডিফেন্ডার ব্লক করে দেন।

৭৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ পান নিকোলাস গঞ্জালেস। মেসির নেওয়া চমৎকার কর্নার থেকে হেড করলেও বল পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।

দ্বিতীয় গোলের জন্য একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে আর্জেন্টিনা। ৮৭ মিনিটে গঞ্জালেসের আরেকটি প্রচেষ্টা ডি-বক্সের ভেতর থেকে ব্লক হয়ে যায়।

তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা দীর্ঘ হয়নি।

ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেস বাম দিক দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে একটি বিধ্বংসী কাউন্টার অ্যাটাকের সূচনা করেন। তার শট শ্লাগার ঠেকালেও বল চলে আসে মেসির সামনে। তখনও কয়েকজন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার গোললাইন আগলে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

মেসির প্রথম প্রচেষ্টা সাইওয়াল্ডের গায়ে লেগে ফিরে আসে। কিন্তু দ্বিতীয়বার আর ভুল করেননি তিনি। গোললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দানসোকেও পরাস্ত করে বল জালে পাঠান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

জোড়া গোলের রাতে শুধু ইতিহাসই লেখেননি মেসি, নিশ্চিত করেছেন দলের নকআউট পর্বও। দুই ম্যাচে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট নিয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে এক ম্যাচ হাতে রেখেই শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

মেসির পায়ে লেখা আরেকটি রেকর্ডের রাতে তাই ডালাস সাক্ষী হয়ে থাকল আর্জেন্টিনার আরেকটি স্বপ্নযাত্রার।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff