জাতীয়

নেপালের পাহাড়ি ঢল কি বাংলাদেশে আসছে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
একুশে সিলেট · শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬ · রাত ১১:৩৪ · ১৩০ ভিউ

নেপাল–তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানি ভারতের বিহার হয়ে গঙ্গা নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে—এমন আশঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপালে যে তীব্রতার ঢল দেখা গেছে, তা একই শক্তিতে বাংলাদেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম।

নেপালের ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদীর পানি ইতোমধ্যে নারায়ণী–গণ্ডক নদী ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। এই নদী ভারতের বিহারে গণ্ডক নামে পরিচিত এবং হাজিপুর–সোনপুর এলাকায় গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়। এরপর গঙ্গা পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা অতিক্রম করে বাংলাদেশে পদ্মায় প্রবেশ করে। ফলে ভৌগোলিকভাবে নেপালের ঢলের একটি অংশ বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থায় পৌঁছানোর পথ রয়েছে।

তবে দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রম করার সময় ঢলের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে যায়। নদীর প্রশস্ততা, বিভিন্ন শাখা–প্রশাখায় পানি ছড়িয়ে পড়া, তলদেশের ধারণক্ষমতা এবং অন্যান্য নদীর পানির সঙ্গে মিশে যাওয়ার কারণে বন্যার ঢেউ ধীরে ধীরে কমে আসে বলে জানিয়েছেন জলবায়ু ও নদীবিষয়ক গবেষকরা।

এদিকে ভারতের বিহারে গণ্ডক নদীর পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় পানি কমিশন। বাল্মীকিনগর গণ্ডক ব্যারাজের ৩৬টি গেট খুলে পানি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, সরণ, মুজাফফরপুর ও বৈশালীর মতো জেলাগুলোকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে।

কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, নেপালের ঢলের পানি শেষ পর্যন্ত ফারাক্কা হয়ে বাংলাদেশের গঙ্গা–পদ্মায় প্রবেশ করতে পারে। তবে এই পানি ঠিক কখন পৌঁছাবে বা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নির্ভরযোগ্যভাবে বলা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান বলেন, বাংলাদেশের নদীর পানির উচ্চতা নির্ধারণে শুধু নেপালের ঢল নয়; ফারাক্কায় গঙ্গার প্রবাহ, ভারতের উজানের পানির পরিমাণ, দেশের স্থানীয় বৃষ্টিপাত এবং পদ্মার নিজস্ব প্রবাহ—সবকিছুই একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়াসহ গঙ্গা–পদ্মা তীরবর্তী জেলা এবং চরাঞ্চলে নদীর পানির উচ্চতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। কারণ আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থার কারণে উজানের পরিবর্তনের প্রভাব ভাটিতেও পড়তে পারে, যদিও সেটি নেপালের মতো ভয়াবহ রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা এখনো নিশ্চিত নয়।

সম্পর্কিত সংবাদ