সিলেট

জৈন্তাপুরের নিজপাট চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে ডিসির কাছে আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬ · রাত ৮:৫০ · ২২৩ ভিউ

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ, অনিয়ম-দুর্নীতি এবং প্রতিবাদকারী এক নাগরিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে আবেদনটি দেওয়া হয়। ‘মাদকবিরোধী আন্দোলন সংগঠন, জৈন্তাপুর’-এর পক্ষে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মুফতি সাইদ আহমদ আবেদনটি করেন।

আবেদনে বলা হয়, গত ১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই ব্যক্তির মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে থাকা একজনকে নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী বলে প্রচার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

জৈন্তাপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত ১৪ জুলাই প্রকাশিত তদন্ত কমিটির অনুসন্ধান কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদনেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পত্রের মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যদের নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে দায়িত্ব বণ্টন করে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে ওই সময় পর্যন্ত চূড়ান্ত সমন্বিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়নি।

অগ্রগতি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এবং যথাযথ তথ্যসূত্র ছাড়া কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে মন্তব্য বা প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ধরনের প্রচারণা তদন্ত কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে যথাযথ তথ্যসূত্র ছাড়া এ ধরনের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মীদের অনুরোধ জানানো হয়।

এদিকে জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনে মাদক সেবনের অভিযোগের পাশাপাশি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, চেয়ারম্যানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় গত ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এক প্রতিবাদকারী নাগরিককে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজসহ প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি সেবা নিতে যাওয়া অন্য এক নাগরিককে হয়রানি করার অভিযোগও আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

আবেদনকারীরা বলেন, একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আইনানুগ দায়িত্ব পালন, জনগণের সঙ্গে শালীন ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ এবং ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিরপেক্ষভাবে প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্বশীল। তাই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

আবেদনে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির মাধ্যমে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য আইন, বিধি-বিধান এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা স্থানীয় প্রভাবমুক্ত থেকে পরিচালিত হয় এবং অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হয়—এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও স্ক্রিনশটের কপি সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ