যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। শনিবার তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহনের জলপথ হরমুজ প্রণালি কোনোভাবেই টুইট করে বা কোনো হুকুম জারি করে দখল করা সম্ভব নয়। এটি অতীতেও ইরানি নিয়ন্ত্রণে ছিল, বর্তমানেও রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ইরানের কমান্ডেই পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের কঠোর জবাব দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, হরমুজ প্রণালি দখল করার এই ধরনের খামখেয়ালি পরিকল্পনা বা নির্বাচনী ভাষণের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে একবার এবং চিরতরে এই বাস্তবটি মেনে নিতে হবে যে তারা কৌশলগতভাবে পরাজিত হয়েছে এবং যতদিন না ওয়াশিংটন এই বাস্তবতাকে স্বীকার করছে, ততদিন তেহরান তাদের এই অবরোধ বজায় রাখবে।
মূলত নিউ ইয়র্কের একটি পুলিশ একাডেমিতে রাজনৈতিক সমাবেশে দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্যের পরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ট্রাম্প ওই সমাবেশে উপহাসের সুরে দাবি করেছিলেন যে, ইরানকে পুরোপুরি পরাজিত করার পর তিনি খুব শীঘ্রই হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। এছাড়া তিনি আরও দাবি করেন যে, এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেলেও একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর দেশকে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এই মূল্য পরিশোধ করা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
যদিও পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসের এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে যে ট্রাম্প ওই কথাটি মূলত রসিকতা করেই বলেছিলেন।
সূত্র: এনডিটিভি
