বিশেষ প্রতিবেদন

আইন আছে, প্রয়োগ নেই: জৈন্তাপুরে পানি ছাড়াই চলছে পাথর ক্রাশিং

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ · রাত ৪:৩৬ · ২২০ ভিউ

সিলেটের জৈন্তাপুরে পরিবেশ আইন ও নির্ধারিত শর্ত লঙ্ঘন করে পাথর ক্রাশিং চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বৃষ্টির মধ্যেও পানি ব্যবহার না করে পাথর ভাঙার কারণে ক্রাশিং মেশিন থেকে নির্গত ধুলা-বালু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় জনবসতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও সিলেট-তামাবিল মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জৈন্তাপুর উপজেলার ৪ নম্বর বাংলা বাজার থেকে আলুবাগান পর্যন্ত সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় দুই শতাধিক পাথর ভাঙার কল বা ক্রাশিং মেশিন রয়েছে। এসব ক্রাশিং মিল স্থাপনের সময় পরিবেশ রক্ষাসহ বিভিন্ন শর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়। এর মধ্যে পাথর ক্রাশিংয়ের সময় ধুলা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পানি ব্যবহারের শর্ত অন্যতম।

তবে অভিযোগ রয়েছে, ক্রাশিং মিল মালিকদের অনেকেই এসব শর্ত মানছেন না। সম্প্রতি জৈন্তাপুরে ঘন ঘন বৃষ্টিপাত হলেও ক্রাশিং মেশিনে পানি ব্যবহার না করেই পাথর ভাঙার কাজ চালানো হচ্ছে।

সরেজমিনে ৪ নম্বর বাংলা বাজার থেকে আলুবাগান পর্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ক্রাশিং মিলে পানি ব্যবহার ছাড়াই পাথর ভাঙা হচ্ছে। এতে মেশিন থেকে বিপুল পরিমাণ ধুলা ও পাথরের কণা বের হয়ে আশপাশের বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্রাশিং মিলগুলো জনবসতি, স্কুল, মসজিদ এবং মহাসড়কের কাছাকাছি হওয়ায় ধুলা সরাসরি মানুষের বসতবাড়ি ও চলাচলের পথে ছড়িয়ে পড়ছে। সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী পর্যটক, পথচারী ও যানবাহনের চালকসহ স্কুলগামী শিক্ষার্থীরাও এ দূষণের শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পাথর ক্রাশিংয়ের ধুলায় এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বাতাসে ধুলাবালু ছড়িয়ে পড়ায় ঘরবাড়ি, গাছপালা ও রাস্তার পাশের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

সচেতন মহলের অভিযোগ, পরিবেশ রক্ষায় আইন ও বিধিবিধান থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় কিছু ক্রাশিং মিল মালিক শর্ত মানছেন না। বর্ষাকালে পানি সহজলভ্য থাকার পরও যদি পানি ব্যবহার না করে ক্রাশিং চালানো হয়, তাহলে শুকনো মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবেশ দূষণ ও অনুমোদনের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সচেতন মহলের কয়েকজন বলেন, জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করে প্রশংসা পেয়েছে। জনস্বার্থ ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন দ্রুত পাথর ক্রাশিং মিলগুলোতে অভিযান চালাবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।

তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিবেশ দূষণের মাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও দীর্ঘমেয়াদে আরও তীব্র হতে পারে।

সম্পর্কিত সংবাদ