সুনামগঞ্জ

দোয়ারাবাজারে ঘিলাছড়া স্কুলের পুরোনো ভবন অপসারণে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক · বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬ · রাত ১:০৮ · ১৮২ ভিউ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ঘিলাছড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুরোনো ভবন অপসারণের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও গোপনীয়তার অভিযোগ উঠেছে। নামমাত্র মূল্যে পুরোনো ভবনটি বিক্রির জন্য একটি সিন্ডিকেটকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘিলাছড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুরোনো ভবন ভেঙে অপসারণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনীয়তার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘিলাছড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও দোয়ারাবাজার উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল হক শামীম অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে গোপনীয়ভাবে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। তার দাবি, ভবনটির নিলাম থেকে সরকার ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত রাজস্ব পেতে পারত। কিন্তু একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোপনে মাত্র দুই লাখের কিছু বেশি টাকায় পুরোনো ভবনটি বিক্রির টেন্ডার দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে এই টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

ঘিলাছড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সানোয়ার হোসেন বলেন, পুরোনো ভবন ভাঙা বা টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পর্কে কলেজ কর্তৃপক্ষকে কোনো সুনির্দিষ্ট বা দাপ্তরিক তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন তারা।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় এবং পুরোপুরি স্বচ্ছতা থাকা উচিত ছিল, যাতে কোনো ধরনের ধোঁয়াশার সৃষ্টি না হয়।’

অভিযোগের বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, নিয়ম মেনেই সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে দাপ্তরিক ও ই-টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে গোপনীয়তা বা সিন্ডিকেটের কোনো সুযোগ নেই। উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহের সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি এইমাত্র আমার নজরে এসেছে। ঘিলাছড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণের পুরোনো ভবন অপসারণে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি রাজস্বের সম্ভাব্য ক্ষতি রোধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সম্পর্কিত সংবাদ