সিলেট

কোম্পানীগঞ্জে নির্ধারিত সময়ের আগে স্কুল ছুটি, ৩টা ১৫ মিনিটেই বিদ্যালয় বন্ধ

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রতিবেদক · মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬ · রাত ১:২২ · ৬১১ ভিউ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের জীবনপুর সরিন্দ্র চন্দ্র নাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে ছুটি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা এক অভিভাবকের মন্তব্য পরে পরিবর্তন করাতে অভিযুক্ত শিক্ষকরা তার বাড়িতে গিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে বিদ্যালয়টি ছুটি দেওয়া হয়। ছুটির পাঁচ মিনিট পর, অর্থাৎ ৩টা ২০ মিনিটে বিদ্যালয়ের পাশের সড়কে এক অভিভাবক শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের কাছে ছুটির সময় জানতে চাইলে তারা ৩টা ১৫ মিনিটে স্কুল ছুটি হয়েছে বলে জানায়।

বিষয়টি নিয়ে এক প্রতিবেদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ওই পোস্টে এক অভিভাবক মন্তব্য করেন, তার ছোট ভাই স্কুল থেকে নির্ধারিত সময়ের আগে বাড়ি ফেরায় কারণ জানতে চাইলে সে ৩টা ১৫ মিনিটে ছুটি হওয়ার কথা জানায়।

তবে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ওই অভিভাবক তার মন্তব্য সম্পাদনা করে লেখেন, ‘স্কুল ৩টা ৩০ মিনিটে ছুটি হয়েছে এবং স্কুলে ফ্যান নষ্ট হওয়ার কারণে ছুটি দেওয়া হয়েছে।’ এর আগে করা মন্তব্যের স্ক্রিনশট প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত থাকায় মন্তব্য পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই মন্তব্য পরিবর্তনের আগে বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈলেন চন্দ্র নাথ ও অপর শিক্ষক হযরত আলী ওই অভিভাবকের বাড়িতে যান। তাদের চাপের মুখে ওই অভিভাবক ফেসবুকে করা মন্তব্য পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়টিতে এর আগেও নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষক সৈলেন চন্দ্র নাথ প্রায়ই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সময় দেন এবং ‘অফিসের কাজ’ দেখিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাতায়াত করেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক সৈলেন চন্দ্র নাথের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেহেনা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রতিবেদকের পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার টিটু কুমার দে এবং সহকারী শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা হয়। উপজেলা শিক্ষা অফিসার টিটু কুমার দে জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে, ‘সিলিং ফ্যান পড়ে যাওয়ার কারণে’ আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়েছিল।

তবে তিনি বলেন, এ ধরনের কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি এবং অভিভাবকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য পরিবর্তনের অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ