আলোচিত সংবাদ

সুরমা ও যাদুকাটায় অবৈধ বালু তোলার মহোৎসব: বিলীনের পথে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রতিবেদক · শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ · ১২:৩৫ এএম · ১৭৪ ভিউ

সিলেটের বিভিন্ন নদীতে অবৈধভাবে এবং নিয়ম অমান্য করে বালু উত্তোলন চলছে। কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে, কোথাও বালুমহাল ইজারাপত্রের জোরে ইজারা বহির্ভূত স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর তীর, কৃষিজমি, বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হচ্ছে। সিলেটের জকিগঞ্জ, কানাইঘাটে ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীতে দেখা গেছে বালু উত্তোলনের এসব চিত্র। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসী গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসক ও তাঁর মাধ্যমে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী, নৌপরিবহন মন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন ইত্তেফাককে জানান, কোনো অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। শিগগিরই টাস্ক ফোর্স নামানো হবে বলে জানান তিনি।

সূত্রমতে, জনৈক ব্যক্তি ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ইজারায় সুরমা নদীর দক্ষিণ অংশে জকিগঞ্জ নয়াগ্রাম এলাকার একটি বালুমহাল ইজারা নেন। কিন্তু ইজারাদারের লোকজন ইজারা বহির্ভূত কানাইঘাটের কায়স্থ গ্রামসহ আরো কয়েকটি এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করছেন। গ্রামবাসী জানান, এতে এলাকার বহু স্থাপনা নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। প্রতিদিন ২০-২২ হাজার ঘন ফুটের বড় বড় ২২-২৫টি স্টিল বডি নৌকায় বালু তোলা হচ্ছে।

অবৈধ বালু উত্তোলনে নদীর অপর তীর কানাইঘাটে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাণীগ্রাম ইউপির বড়দেশ দক্ষিণ ও কায়স্থগ্রামের

বাসিন্দারা জানান, প্রায় নদীর তীরে প্রায় সাত-আট কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে। কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত সুরমা নদীর দুই তীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ বিলীন হওয়ার পথে। এলাকার সবজি গ্রাম সমবায় সমিতির কোটি টাকা ব্যয়ে পানির পাইপলাইন বিলীন হওয়ার পথে।

হুমকির মুখে পড়েছে বড়দেশ দক্ষিণ গ্রামের ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মসজিদ, বসতবাড়ি, হাটবাজার, দোকানপাট, ফসলি জমি, স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। গ্রামবাসী জানান, তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলার ভয় দেখায়। এদিকে, সুনামগঞ্জ জেলার যাদুকাটা নদী এলাকার ঘাটিয়া গ্রাম নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে অবৈধ বালু উত্তোলনে। সেখানেও ইজারা বহির্ভূত এলাকা জুড়ে বালু উত্তোলন চলছে। বাড়িঘর বিলীন হওয়ার কোনো প্রতিকার না পেয়ে এলাকা ছেড়েছেন অনেক বাসিন্দা।

এর আগে, এলাকাবাসীর পক্ষে গত ৩০-৬-২০২৬ তারিখ জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে অবহিত করলে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার টিএনওকে জরুরিভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পর জকিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ‘লালপতাকা’ টানিয়ে ইজারাকৃত ভূমি চিহ্নিত করে ইজারাদারকে সতর্ক করেন। কিন্তু তারা তা গ্রাহ্য না করে, লোক চক্ষুকে ফাঁকি দিয়ে তারা ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে।

জকিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিত কুমার চন্দ্র জানান, প্রশাসনের লোকজন সেখানে গিয়েছিল। তারা দেখেছেন, ইজরাকৃত জায়গা থেকে বালু তোলা হচ্ছে। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, ‘আমরা অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেব।’

সম্পর্কিত সংবাদ