বিশেষ প্রতিবেদন

নগরীর বুকেই মাদকের ‘হটস্পট’! রাতভর জমে অন্ধকার বাণিজ্য

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রতিবেদক · মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ · ৯:১৯ পিএম

দিনের আলোয় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ব্যস্ততা, আর রাত নামলেই মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের আনাগোনা—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকার কাষ্টঘর সুইপার কলোনিকে ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর ধরে এ কলোনি মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবীদের অন্যতম আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক পুলিশি অভিযানের পর আবারও আলোচনায় এসেছে এলাকাটি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর থেকেই কলোনিতে বাড়তে থাকে বহিরাগতদের উপস্থিতি। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে ওঠে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের আসর। গাঁজা, মদ, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক প্রকাশ্যেই কেনাবেচা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, শুধু সিলেট নয়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মাদকসেবী ও অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিরা এখানে আসেন।

কাষ্টঘর সুইপার কলোনিতে বসবাসকারী পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অধিকাংশই ছোট ছোট কক্ষের মধ্যে পরিবার নিয়ে মানবেতর পরিবেশে বসবাস করেন। একই ঘরে রান্না, খাওয়াদাওয়া ও দৈনন্দিন জীবনযাপন করতে হয় তাদের। এই দারিদ্র্য ও সামাজিক অবহেলার সুযোগ নিয়েই একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

শুধু কাষ্টঘর নয়, দক্ষিণ সুরমার সুরমাপার সুইপার কলোনিতেও একই ধরনের কার্যক্রম চলার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কিছুদিনের বিরতির পর আবারও সীমিত পরিসরে মাদক ব্যবসা শুরু হয়েছে।

এছাড়া সিলেট শহরতলীর কয়েকটি চা-বাগান এলাকাতেও মাদকের এমন আড্ডা গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মালনীছড়া, আলীবাহার, তারাপুরসহ বিভিন্ন চা-বাগানের কিছু এলাকায় রাতের আঁধারে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যুগের পর যুগ ধরে এসব এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলেও তা স্থায়ী ফল বয়ে আনতে পারেনি। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু মাদক উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার আগের চিত্র ফিরে আসে।

তবে সম্প্রতি আবারও কঠোর অবস্থানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার রাতভর কাষ্টঘর সুইপার কলোনিতে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ মদ, গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রত্যাশা, বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, ধারাবাহিক নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নগরীর মাদকের আস্তানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে সুইপার কলোনিগুলোর বাসিন্দাদের জন্য উন্নত আবাসন, বিকল্প কর্মসংস্থান ও সামাজিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. মনজুর আলম বলেন, “মাদকবিরোধী গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। খুব শিগগিরই সিলেটের সব চিহ্নিত মাদকের আস্তানায় আরও বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

সম্পর্কিত সংবাদ