মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক ও মাইক্রোবাস চালকদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া এ সংঘর্ষে ৬ সাংবাদিকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৬ জনকে গুরুতর অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর শহরজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কে পড়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, সকালে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও একটি মাইক্রোবাসের মধ্যে রাস্তায় সামান্য ঘষা লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে চালকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং পরে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে শহরের কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হন। আহত সাংবাদিকরা হলেন— আমজাদ হোসেন বাচ্চু (৪৯), ইসমাইল মাহমুদ (৫৭), এহসান বিন মুজাহিদ, এসকে দাশ সুমন, নূর মোহাম্মদ সাগর (৩৩) ও মো. আলামিন (৩০)।
এছাড়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন এহসানুল হক (৩৪), উজ্জ্বল কুমার দাশ (৪৪), রাব্বি (২২), আউয়ুব আলী (৪০), বিশাল (২২), সওকত (৪৪), রাকিব (১৯), বিল্লাল মিয়া (৩২), চয়ন মিয়া (৩৮), আমির মিয়া (২৪) এবং আরও দুজন, যাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গুরুতর আহতদের মধ্যে আমজাদ হোসেন বাচ্চু, বিশাল, আউয়ুব আলী, রাব্বি ও সওকতকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, সংঘর্ষে আহত ১৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের অধিকাংশের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকের পর উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ালে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply