সর্বশেষ :

জ্বালানি সংকটে ধান মাড়াই ব্যাহত, হাকালুকি হাওরে কৃষকের দুশ্চিন্তা

জ্বালানি সংকটে ধান মাড়াই ব্যাহত, হাকালুকি হাওরে কৃষকের দুশ্চিন্তা

কুলাউড়া প্রতিনিধি:

এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ হাওর হাকালুকি হাওর-এ শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা। তবে সময় উপযোগী হলেও কৃষকের মনে নেই স্বস্তি—বরং ঝড়-বৃষ্টি ও জ্বালানি সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। চৈত্রের শুরুতে তীব্র খরার পর কৃষকরা বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করলেও এখন সেই বৃষ্টিই তাদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও ঝড়ের কারণে হাওরজুড়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। আকস্মিক বন্যা ও অতিবৃষ্টির আশঙ্কায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কাঁচা-পাকা ধান কেটে ফেলছেন।

তবে ধান কাটার পর সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছেন মাড়াই নিয়ে। অন্যান্য বছর সহজেই মাড়াই মেশিন হাওরে গিয়ে কাজ করলেও এবার জ্বালানি তেলের সংকটে অনেক মেশিন অলস পড়ে আছে। ফলে মাঠে কাটা ধান স্তূপ করে রাখা হচ্ছে, আর তার ওপরই পড়ছে বৃষ্টি—যা ধান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

হাওরপাড়ের কৃষক জিয়াউর রহমান, মারুফ মিয়া, ফজলু মিয়া, জায়েদ আহমদ, লালা মিয়া, ফারুক মিয়া, আলমাছ মিয়া, আব্দুল মতিন, বদরুল ইসলাম ও ছালেক মিয়া বলেন, “ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ধান কাটছি, কিন্তু মাড়াই করতে পারছি না। তেলের অভাবে মেশিন হাওরে আসছে না, সবকিছু থমকে গেছে।”

স্থানীয়দের মতে, হাওরাঞ্চলে ধান উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়াই জ্বালানিনির্ভর। ধান কাটা থেকে মাড়াই পর্যন্ত প্রায় সবকিছুতেই ডিজেল প্রয়োজন। শ্রমিক সংকটের কারণে এখন কম্বাইন হার্ভেস্টারের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, যা পুরোপুরি জ্বালানিচালিত। কিন্তু তেল সংকটে মাড়াই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের হাওরাঞ্চলে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক মাড়াই মেশিন তেলের অভাবে দিনের পর দিন বসে আছে। ফলে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, কুলাউড়া অংশে এবার প্রায় ৪ হাজার ৮শত ৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক আগাম ধান কাটছেন। তিনি বলেন, “ধান ৮০ ভাগ পরিপক্ব হলে কাটতে সমস্যা নেই। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, কৃষকদের সহায়তায় ১২টি কম্বাইন হার্ভেস্টার দেওয়া হয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতি মেশিনে ১০০ লিটার করে তেল পাওয়ার জন্য বিশেষ স্লিপ দেওয়া হয়েছে।

তবুও বাস্তব পরিস্থিতিতে সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ঝড়-বৃষ্টি আর জ্বালানি সংকটের দ্বৈত চাপে হাওরের কৃষকরা এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff