একুশে সিলেট ডেস্ক
দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে সংকট মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং শিগগিরই প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে বলে জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব উম্মে রেহানা।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৪৩ শতাংশই আসে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। এ খাতে মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট হলেও গ্যাস সরবরাহ চাহিদার অর্ধেকেরও কম থাকায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
যুগ্মসচিব আরো বলেন, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানোর জন্য দৈনিক ২ হাজার এমএমসিএফডি (মিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতকে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮৫০ থেকে ৯০০ এমএমসিএফডি। ফলে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গতকালের হিসাব অনুযায়ী উৎপাদিত হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ২৭৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। অথচ ১ হাজার ২০০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া গেলেও ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী মূল্যে উৎপাদন করা সম্ভব হতো।
তিনি বলেন, শুধু বিদ্যুৎ নয়, শিল্প-কারখানা এবং সার উৎপাদনের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতেও গ্যাসের সরবরাহ বজায় রাখতে হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় সরকার সাশ্রয়ের নীতি গ্রহণ করেছে। এ অবস্থায় দেশের ৮টি কয়লাভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্টকে সংকটের মূল সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করা হবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কয়লাচালিত কেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালু থাকলে লোডশেডিং পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a Reply