গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি ::
সিলেটের জাফলং এলাকায় ইয়াবা বাণিজ্যের অভিযোগে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। বিশেষ করে আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় শিশু-কিশোরদের মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলা-র নলজুড়ী গ্রামের রজব আলীর ছেলে সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে সহজে অর্থ উপার্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সাহাব উদ্দিন স্থানীয় শিশু-কিশোরদের ইয়াবা বহন ও বিক্রির কাজে জড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে করে তারা অল্প বয়সেই মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা থাকলেও জামিনে বের হয়ে তিনি আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে বিভিন্ন সময়ে তাকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবুও এলাকায় তার মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা একাধিকবার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। কিন্তু তিনি জামিনে বের হয়ে আবারও একই কাজ শুরু করেন। এতে করে এলাকার শিশু-কিশোররা বিপথে যাচ্ছে।”
তারা আরও জানান, অনেক সময় সাহাব উদ্দিন ধারালো অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যার কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে ভয় পান।
এদিকে গত ১২ মার্চ ২০২৫ সালে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ তাকে ৬০০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তখন তার কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাহাব উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, মাদকের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্সে’ রযেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সীমান্তবর্তী জাফলং এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply