একুশে সিলেট ডেস্ক
সিলেট নগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন আদিত্যপাড়া এলাকায় এক সাংবাদিকের বাসায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সেহেরির সময় সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ আদিত্যপাড়ায় অবস্থিত আলপনা-১৮ নম্বর বাসায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. ইসলাম আলী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় দৈনিক সোনালী কণ্ঠের বিভাগীয় প্রধান ও সিলেট জেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইসলাম আলী সেহেরি খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠে ডাইনিং রুমে অবস্থান করছিলেন। এসময় ২-৩ জন মুখোশধারী ডাকাত ঘরে প্রবেশ করে। একজন তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার হুমকি দেয় এবং অন্যজন চাকুর উল্টো পিঠ দিয়ে মুখে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
ডাকাতদল বাসা থেকে ৩টি মোবাইল ফোন, ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২৬ ভরি রুপা, নগদ ৯০ হাজার টাকা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ভর্তি একটি ট্রাঙ্ক নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সকাল ৮টার দিকে বাসার পাশের একটি মাঠ থেকে ট্রাঙ্কটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও টাকা, স্বর্ণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী ইসলাম আলী জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তারা স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘মাছ চোরা’ রাজিব ও তার সহযোগীদের শনাক্ত করতে পেরেছেন। অভিযুক্তরা হলো— রাজিব ওরফে মাছ চোরা রাজিব (৪০), শান্ত (২৮) ও শফিক (৩৫)।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, রাজিবের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র নগরীতে ছিনতাই, লুটপাট ও মাদক কারবারসহ নানাবিধ অপকর্ম চালিয়ে আসছে। এই চক্রে নারী সদস্যসহ রাজিবের পরিবারের বেশ কয়েকজন জড়িত। তাদের ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতে সাহস পায় না।
ঘটনার পর শাহপরাণ থানার এসআই মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই চক্রটি নিয়মিতভাবে লুট করা মালামাল ভাগ-বাটোয়ারা করে এবং এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ইসলাম আলী বলেন, আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ডাকাতরা আমার স্ত্রীর সারাজীবনের সঞ্চয় ও আমার গুরুত্বপূর্ণ সব সার্টিফিকেট নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং এই চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
শাহপরাণ থানা পুলিশ জানায়, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এসএমপি মিডিয়া অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেনেছি আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এদিকে এই ঘটনায় সাংবাদিক মো. ইসলাম আলী বৃহস্পতিবার সিলেটের পুলিশ কমিশনারে কাছে লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করছেন।
Leave a Reply