প্রশাসনের নাকের ডগায় মাটি পাচার, হুমকিতে কৃষি জমি

প্রশাসনের নাকের ডগায় মাটি পাচার, হুমকিতে কৃষি জমি

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় থামছেই না মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক দিয়ে দিন-রাত চলছে মাটি বহনকারী ট্রলিগাড়ি ও ট্রাকটার। অবৈধ মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও কিছুতেই মাটি কাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস, অর্থনৈতিক প্রভাব ও কৃষি বৈচিত্র্যের মারাত্মক হুমকির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পৌর এলাকার খুশালপুর, মুন্সীবাজার, আলীনগর, আদমপুর, মুন্সীবাজার, রাজদীঘিরপাড়সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে আবাদি কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এক শ্রেণীর চিহিুত মাটি ব্যবসায়ীরা জমির মালিকদের নগদ অর্থের বিনিময়ে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও নতুন বসত বাড়ি তৈরির কাজে বিক্রি করছেন। ভাটার মালিকরা ইট তৈরির কাজে তুলনামূলক কম দামে মাটি কিনে ভাটায় স্তুপীকৃত করছেন। প্রায় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই সব এলাকা থেকে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে ভাটায়।

বিশেষ কোনো অজ্ঞাত কারনে মাটি ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নাকের ডগায় দিবারাত্রী মাটিবাহী গাড়ি চলাচল করলে ও তাদের দৌরাত্ম বন্ধ করা যাচ্ছে না। এই মাটি বাহী গাড়িগুলো উন্মুক্তভাবে পরিবহন করার কারনে সর্বত্র ধুলাবালিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে। যার ফলে পরিবেশ দুষিত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয়রা। এছাড়া ভারী ট্রলি ও ট্রাকটার অবাধে চলাচল করায় গ্রামীণ রাস্তাঘাটের অবস্থা নাজেহাল হয়ে পড়েছে।

কৃষক জিয়াউল হক, কয়সর মিয়া, এনামুল হক ও রাসেল হাসান জানান, ইটভাটা, বসতবাড়ি নির্মাণ, রাস্তাঘাট তৈরি ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি হারিয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর। কৃষিজমি সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে আবাদি কৃষিজমি।

পরিবেশ কর্মী নুরুল মোহামিন মিল্টন বলেন, কৃষিজমির উপরিভাগেই থাকে উর্বর মাটি। অথচ জমির উপরের এক থেকে দুই ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। ফলে সেখানকার জমিতে তৈরি হচ্ছে গর্ত এবং উর্বরতা হারিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে কৃষি বৈচিত্র্য।

উপসহকারী এক কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষিজমির উর্বর মাটি খুবই জটিল বিষয়। উর্বর মাটির ছয় ইঞ্চি পরিমাণ গভীরতা চাষাবাদ উপযোগী। এই মাটি সরিয়ে ফেলা হলে পরের বছর সমুহে ভালো ফলন হয় না। প্রচুর গোবর-সার দিয়ে মাটি তৈরি করতে হয়। পুণরায় মাটির উর্বরতা সৃষ্টি হতে কমপক্ষে দশ থেকে পনের বছর সময় লেগে যায়। এটি কৃষিজমির জন্য খুবই ক্ষতিকর।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে নেয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। এ নিয়ে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া যেসব এলাকায় এভাবে কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটা হচ্ছে সেসব এলাকায় তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff