নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শেরওয়ান সারোয়ার আলমের বদলিকে কেন্দ্র করে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তখন এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান।
নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বদলিকে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করে এ নিয়ে অতি আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া দেখানোর সমালোচনা করেন।
পোস্টে অ্যাডভোকেট জামান লিখেছেন, “সিলেটে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার নিয়মিত বদলি হয়েছে। এ নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছে। একদল তাকে স্বপদে বহাল রাখার জন্য মিছিল-সমাবেশ করছেন। আরেকদল বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছেন। অদ্ভুত দেশ! আমাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ রাষ্ট্রকে ‘প্রায়োরিটি’ দিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কোনো কর্মকর্তার বদলিকে কেন্দ্র করে জনমত সৃষ্টির চেষ্টা কিংবা আবেগনির্ভর আন্দোলন প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান তাঁর পোস্টের মাধ্যমে মূলত একটি নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান ও নিয়ম-কানুনই মুখ্য হওয়া উচিত। একজন কর্মকর্তা আসবেন, দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যত্র বদলি হবেন—এটাই প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক চিত্র।
সামসুজ্জামান জামানের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর সমর্থকদের দাবি, তিনি কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে নয়, বরং প্রশাসনিক বদলিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সমালোচনা করেছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তি-কেন্দ্রিক না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের মতে, প্রশাসনের ধারাবাহিকতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে নিয়মিত বদলিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করাই একটি গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
