নিজস্ব প্রতিবেদক :
যেন কোনো সিনেমার দৃশ্য! ব্যস্ত সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ, হাতে চাপাতি ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মুহূর্তেই ব্যাংকের ২০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সিলেটের গোলাপগঞ্জে প্রকাশ্যে সংঘটিত এ দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) দুপুর প্রায় ৩টার দিকে পৌর এলাকার দাঁড়িপাতন ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির গোলাপগঞ্জ শাখা থেকে রাজাগঞ্জ ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের জন্য ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। পরে ব্যাংক কর্মকর্তা সাফওয়ান আহমদ ও এজেন্ট ব্যাংকের প্রতিনিধি হাজী মোহাম্মদ আলী টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে রাজাগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পথিমধ্যে দাঁড়িপাতন এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা একদল ছিনতাইকারী তাদের সিএনজির গতিরোধ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে একটি মোটরসাইকেল সিএনজির সামনে এসে দাঁড়িয়ে পথ আটকে দেয়। পরে আরও দুটি মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র ও চাপাতি প্রদর্শন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা ব্যাংক কর্মকর্তা সাফওয়ান আহমদের কাছ থেকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে তাকে চাপাতি দিয়ে পায়ে আঘাত করা হয়। পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী হাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো দুর্ঘটনাবশত মোটরসাইকেলটি সামনে এসেছে। পরে মোটরসাইকেল সরাতে বললে পিছন থেকে আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল এসে আমাদের ঘিরে ফেলে। এসময় এক যুবক লম্বা চাপাতি বের করে টাকা দিতে বলে। টাকা না দেওয়ায় সাফওয়ানকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রও থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ হয়েছে। পরে তারা টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
রাজাগঞ্জ ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের মালিকের ছেলে হাবিব চৌধুরী বলেন, আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি। দিনদুপুরে এভাবে ডাকাতির ঘটনা ঘটলে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে। ঘটনার প্রায় সাত ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্যে এ ধরনের দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply