আজ ঢাকায় চূড়ান্ত বৈঠক: খুলছে কি সিলেটের পাথর কোয়ারি?

আজ ঢাকায় চূড়ান্ত বৈঠক: খুলছে কি সিলেটের পাথর কোয়ারি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো ফের চালু হচ্ছে কি-না—এ প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সিলেট। কোয়ারিগুলোর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশগত ঝুঁকি ও করণীয় নির্ধারণে আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এক উচ্চপর্যায়ের সভা। আর সেই সভার দিকেই এখন তাকিয়ে আছেন সিলেটের লাখো শ্রমজীবী মানুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০৮ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন। এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ও সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকদের। যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকায় আরিফুল হক চৌধুরী ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হবেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ সভা থেকেই পাথর কোয়ারিগুলো সীমিত পরিসরে হলেও পুনরায় চালুর ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সিলেট অঞ্চলে ভোলাগঞ্জ (সাদাপাথর), জাফলং, বিছনাকান্দি, লোভাছড়া, উৎমাছড়া, শ্রীপুর, রতনপুর ও শাহ আরেফিন টিলাসহ বেশ কয়েকটি পাথর কোয়ারি রয়েছে। একসময় এসব কোয়ারি ছিল স্থানীয় মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস। সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে হাজার হাজার শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করতেন। ভোলাগঞ্জসহ কয়েকটি কোয়ারি নিয়মিত ইজারাও দেওয়া হতো।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রের মাধ্যমে অপরিকল্পিত ও পরিবেশবিধ্বংসী পাথর উত্তোলন বাড়তে থাকায় সংকটে পড়ে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য। একপর্যায়ে জাফলংকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। পরে পরিবেশবাদীদের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত পাথর উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ২০১৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে এবং সর্বশেষ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সিলেটের সব পাথর কোয়ারি থেকে উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সরকার।

কোয়ারিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিপুল সংখ্যক শ্রমিক, পাথর ভাঙা শ্রমজীবী মানুষ, নৌযান ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বেকার হয়ে পড়েন। জীবিকার দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন হলেও সরকার অনড় অবস্থানে ছিল।

এরমধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কোয়ারিগুলো থেকে শত শত কোটি টাকার পাথর লুটের অভিযোগ ওঠে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সিলেট অঞ্চলে পাথর কোয়ারি ছিল অন্যতম আলোচিত ইস্যু।

বিশেষ করে কোয়ারিবেষ্টিত সিলেট-৪ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের সুযোগ দিয়ে কোয়ারিগুলো চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। পরে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়।

গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী বলেন, শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনা করে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের শর্তে কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়া হবে বলে আমরা আশাবাদী। কোয়ারি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অন্যদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রকৃতি ধ্বংস করে কোনোভাবেই পাথর উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া উচিত হবে না।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, পাথর কোয়ারিগুলো নিয়ে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সরকারের উচিত পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এসব এলাকাকে পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।

আজকের বৈঠককে ঘিরে তাই একদিকে যেমন শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে, অন্যদিকে পরিবেশবাদীদের মধ্যেও রয়েছে উদ্বেগ। এখন দেখার বিষয়—সরকার জীবিকা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কী সিদ্ধান্ত নেয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff