সুনামগঞ্জ

শাল্লায় ভূয়া প্রকল্পে ১৮ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান-সচিবের বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রতিবেদক · শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ · ৮:৫৬ পিএম

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৩ নম্বর বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় নেওয়া একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম, জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু ও সদ্য সাবেক সচিব সমীর সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন একই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সহদেব চন্দ্র দাস ও আলমাস মিয়া।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদে ১২টি প্রকল্পে মোট ১৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, দু-একটি প্রকল্প ছাড়া অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন না হলেও কাগজে-কলমে প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ডুমরা পাকা রাস্তা থেকে রসিক লাল সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সিসি ঢালাই, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের জন্য দুটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার ও লাইব্রেরির চেয়ার ক্রয়, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য সেলাই মেশিন কেনা, আঙ্গাউড়া এলাকায় সিসি ঢালাই রাস্তা নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প তালিকাভুক্ত থাকলেও অধিকাংশ কাজ বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী।

এছাড়া সদ্য সাবেক সচিব সমীর সরকারের আত্মীয়ের নামে একটি কথিত প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আত্মীয়-স্বজনের নামে সিম ব্যবহার করে কর্মসূচির শ্রমিকদের মজুরির টাকা উত্তোলন, মাতৃত্বকালীন ভাতা, ভিজিডি, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের মতো অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে এলজিইডির সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মো. সাজু মিয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হলেও তিনি কাজের মান সন্তোষজনক উল্লেখ করে প্রত্যয়ন দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সাজু মিয়া বলেন, ‘কয়টি প্রকল্পে প্রত্যয়ন দিয়েছি, তা এই মুহূর্তে মনে নেই। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’ এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক সচিব সমীর সরকার।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু বলেন, ‘আমি কোনো প্রকল্পের টাকা উত্তোলন বা আত্মসাৎ করিনি। জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকায় যেসব প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু হয়নি, সেসব প্রকল্পের অর্থ যৌথ হিসাবেই সংরক্ষিত রয়েছে।’

শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় গৃহীত সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সুনামগঞ্জের উপপরিচালক অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, ‘এখনো অভিযোগপত্র হাতে পাইনি। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্পর্কিত সংবাদ