সর্বশেষ :
ছাতকে অবৈধ বালু উত্তোলন: নৌ পুলিশ ও থানার ‘ঠেলাঠেলি’তেই পার পাচ্ছে অপরাধীরা! ফের সক্রিয় পাথরখেকো চক্র: কোম্পানীগঞ্জে ৮ ক্রাশার মিলে প্রশাসনের অভিযান, বিপুল পাথর জব্দ ভারতের নতুন সেনাপ্রধান ধীরাজ শেঠ শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী চট্রগ্রামে হত্যাচেষ্ঠা মামলার তিন আসামি সিলেট থেকে আটক মদের দাম বাড়ানো বাজেটও বিরোধী দলের ভালো লাগে না: প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিকদের কৃষিপণ্য লুট ও পান গাছ কাটার প্রতিবাদ নবীগঞ্জে হাতুড়ে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় ৯ বছরের কিশোরীর মৃত্যু রাজস্ব আদায় বাড়লে নাগরিক সেবা সম্প্রসারিত হয়: সিসিক প্রশাসক প্রবাসী অধ্যুষিত দশঘর ইউপি নির্বাচন: ভোটের হাওয়া ছড়াচ্ছে গ্রাম থেকে প্রবাসে

ছাতকে অবৈধ বালু উত্তোলন: নৌ পুলিশ ও থানার ‘ঠেলাঠেলি’তেই পার পাচ্ছে অপরাধীরা!

ছাতকে অবৈধ বালু উত্তোলন: নৌ পুলিশ ও থানার ‘ঠেলাঠেলি’তেই পার পাচ্ছে অপরাধীরা!

স্টাফ রিপোর্টার

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ১নং ইসলামপুর ইউনিয়নের সোনাই নদী থেকে প্রতি রাতে শত শত শ্রমিকের সহায়তায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীটির কোনো বৈধ বালুমহাল বা সরকারি ইজারা (লিজ) না থাকা সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে নদীভাঙন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বালুবাহী প্রতিটি নৌকা থেকে ‘রয়্যালটি’র নামে প্রতি ঘনফুট বালুতে ১৩ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একটি নৌকায় গড়ে প্রায় ৮০০ ফুট বালু বহন করা হয়। সেই হিসাবে প্রতি নৌকা থেকে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার ৪০০ টাকা। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক নৌকা থেকে এভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করা হয়। ফলে দৈনিক চাঁদাবাজির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ওই প্রভাবশালী চক্রটি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—যেখানে কোনো বৈধ ইজারা নেই, সেখানে কার নির্দেশে এবং কোন কর্তৃপক্ষের নামে এই ‘রয়্যালটি’ আদায় করা হচ্ছে? এই বিপুল অঙ্কের অর্থ কোথায় যাচ্ছে এবং কারা এর নেপথ্য সুবিধাভোগী—তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে একে অপরের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতা দেখা গেছে।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান মুঠোফোনে জানান, ‘আমরা বিষয়টি ইউএনও ও এসিল্যান্ড মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ওখানে যাওয়া খুবই দুর্গম, এটা আপনার জানার কথা। তাছাড়া এটা মূলত নৌ পুলিশের এখতিয়ার। নৌ পুলিশ চাইলে আমরা অবশ্যই সহযোগিতা করবো।’

ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আনোয়ার-এর কাছে দীর্ঘদিনেও রাতে কোনো অভিযান না চালানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,

‘বিষয়টা থানার ওসি স্যারকে জানান। ওনার বিশাল ফোর্স আছে, ওনার একটা স্পিডবোট আছে, আমারও একটা আছে। ওনি সহযোগিতা করবেন জানালে আমরা একসঙ্গে যাবো। আমি কালকে ওনার সহযোগিতা চাইবো। আজকে একটু ঝামেলার মধ্যে আছি।’

এদিকে, সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহি উদ্দীনের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করে কল কেটে দেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত ও কঠোর অভিযান ছাড়া এই অবৈধ বালু উত্তোলন এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব নয়। অবিলম্বে সোনাই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, ‘রয়্যালটি’র নামে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এই অঞ্চলের পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় রাজস্বের অপূরণীয় ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff