বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ দশঘর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। আইনি জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পুনরায় নির্বাচনের আভাস পেয়েই নড়েচড়ে বসেছেন স্থানীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ইতিমধ্যেই গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় শুরু হয়েছে আগাম নির্বাচনী আমেজ। আর এই নির্বাচনী দৌড়ে বরাবরের মতোই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স প্রবাসী প্রার্থীরা।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর অন্যতম সফরসঙ্গী শাহ চান্দ (রহ.) ও শাহ কালু (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত ৩৭টি গ্রাম নিয়ে গঠিত দশঘর ইউনিয়নটি উপজেলার সবচেয়ে বড় প্রবাসী জনপদ হিসেবে পরিচিত। এ কারণে স্থানীয় নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণে যেমন প্রবাসীদের বড় ভূমিকা থাকে, তেমনি জনপ্রতিনিধি হতে প্রবাসীদের আগ্রহও থাকে আকাশচুম্বী। বিগত ২০০৩ সালের নির্বাচনে এই ইউনিয়নে প্রথম প্রবাসী হিসেবে হাজী সফিক উদ্দিন আহমদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও নির্বাচনের মাঠে প্রবাসীদের জোরালো তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দশঘর ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত ঘরানার অন্তত ৯ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যে ৩ জনই সরাসরি প্রবাসী। সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন— বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমাদ উদ্দিন খান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী হরুপ মিয়া, যুক্তরাজ্য প্রবাসী তাজ উদ্দিন মধু মিয়া, ফ্রান্স প্রবাসী রায়হান আহমদ, দশঘর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, দশঘর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শিহাব আহমদ, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, হেলাল মিয়া এবং সদস্য সচিব ইমাম উদ্দিন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় সভায় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন।
সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জবেদুর রহমানকে পরাজিত করে তরুণ দলনেতা এমাদ উদ্দিন খান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বর্তমানে সেই পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে নির্বাচনী তোড়জোড় শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দিন যত গড়াবে, এখানে প্রবাসী প্রার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর সম্পৃক্ততার কারণে এই ইউনিয়নে নির্বাচনী বাজেট ও প্রচারণার ধরন অন্যান্য সাধারণ ইউনিয়নের চেয়ে অনেকটাই আলাদা ও ব্যয়বহুল হয়ে থাকে।
এদিকে, উপজেলার বাকি ৭টি ইউনিয়ন— লামাকাজী, খাজাঞ্চী, অলংকারী, রামপাশা, দৌলতপুর, বিশ্বনাথ ও দেওকলসের বর্তমান পরিষদের মেয়াদ থাকলেও বসে নেই সেখানকার সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচন আরও পরে হলেও তারা এখন থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মাঠ গরম করে রাখছেন। তবে আপাতত পুরো বিশ্বনাথের নজর এখন প্রবাসী অধ্যুষিত ঐতিহ্যবাহী দশঘর ইউনিয়নের নির্বাচনী সমীকরণের দিকে।
Leave a Reply