সর্বশেষ :
নবদম্পতির মৃত্যু: পাঁচ মাসেই শেষ হলো ভালোবাসার সংসার সিলেটে হামের উপসর্গে দুই দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু মোফাজ্জল চৌধুরী মোরশেদের ওপর হামলা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সিলেটে সাতটার পর ফাঁকা সড়ক, অন্ধকারে বাড়ছে ছিনতাই-চুরি মেধাভিত্তিক জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী সিলেটে হামের ভয়াবহ বিস্তার, একদিনে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ছেলেকে নিয়ে স্কুল থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁতী দল নেতা নিহত লোডশেডিংয়ের কারণ জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সংকট: বিদ্যুৎ বিভাগ বিয়ানীবাজারে পরীক্ষার প্রথম দিনেই ৩ ছাত্রী নিখোঁজ

সিলেটে সাতটার পর ফাঁকা সড়ক, অন্ধকারে বাড়ছে ছিনতাই-চুরি

সিলেটে সাতটার পর ফাঁকা সড়ক, অন্ধকারে বাড়ছে ছিনতাই-চুরি

সুবর্ণা হামিদ,স্টাফ রিপোর্টার
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সিলেট নগরীর চিত্র বদলে যায়। রাত সাতটার পর অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—সবখানেই নেমে আসে অস্বস্তিকর নীরবতা।

ব্যস্ততম নগরী সিলেট যেন হঠাৎই গুটিয়ে নেয় নিজেকে। একে একে বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট, ফাঁকা হতে থাকে সড়ক। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই নেমে আসে লোডশেডিং। মুহূর্তেই অন্ধকারে ডুবে যায় শহরের অনেক এলাকা। এই অন্ধকার এখন শুধু আলোহীনতা নয়—নগরবাসীর কাছে এটি ক্রমবর্ধমান আতঙ্কের আরেক নাম।

নগরীর আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, কাজলশাহ, মদিনা মার্কেট ও সুবিদবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো কমে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, আলো কমে গেলে ও লোকজন সরে গেলে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে আম্বরখানার বাসিন্দা রাশেদা বেগম বলেন, আগে রাতের বেলা বাজার করা আমাদের জন্য একেবারেই স্বাভাবিক ছিল। পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে বা একটু হাঁটাহাঁটি করতে নির্ভয়ে বাইরে বের হতাম। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। সন্ধ্যা পেরোলেই একে একে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, ফলে রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি কমে যায় এবং আলোর পরিমাণও অনেক কমে আসে। এর মধ্যে যদি লোডশেডিং হয়, তাহলে চারপাশ একেবারে অন্ধকারে ঢেকে যায়। তখন খুব অসহায় লাগে, মনে হয় কখন কী ঘটে যায় বলা যায় না। তাই এখন খুব প্রয়োজন না হলে আমি আর রাতে বাইরে বের হই না।

জিন্দাবাজারের ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আগের মতো এখন আর রাতে ক্রেতা থাকে না। একেতো প্রশাসনিক নির্দেশনা ও পরিস্থিতির কারণে আমাদের অনেককেই সন্ধ্যা সাতটার মধ্যেই দোকান গুটিয়ে ফেলতে হয়, তার ওপর দিনের বেলায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসাও ঠিকমতো হয় না। বিদ্যুৎ না থাকলে অনেক সময় দোকান চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে, ক্রেতারাও কম আসে। ফলে সারাদিনেই বিক্রি কমে যায়। বাধ্য হয়েই তাই আমরা আগে ভাগে দোকান বন্ধ করি। কিন্তু এতে পুরো এলাকার চিত্রটাই বদলে গেছে। একসময় রাত ৯টা-১০টা পর্যন্ত মানুষের ভিড় থাকত, চারপাশে একটা প্রাণচাঞ্চল্য ছিল। এখন দোকানগুলো দ্রুত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। রাস্তায় লোকজন না থাকায় একটা অজানা ভয় কাজ করে। এতে যেমন ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি নিরাপত্তার দিক থেকেও আমরা আগের মতো স্বস্তি পাই না

শিক্ষার্থীদের মাঝেও বাড়ছে উদ্বেগ। কাজী জালালউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন-পরীক্ষা চললেও মনের মতো প্রস্তুতি নিতে পারছি না। ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং থাকে, এতে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাতে পড়তে বসলে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যায়, আবার কখন আসবে সেটাও অনিশ্চিত থাকে রাতে ভালো করে ঘুম হয় না। অন্যদিকে কোচিং শেষে বাসায় ফিরতে দেরি হলে আরও বেশি দুশ্চিন্তা কাজ করে। অনেক সময় রাস্তায় লোকজন পাওয়া যায় না, স্ট্রিটলাইটও অনেক জায়গায় ঠিকমতো জ্বলে না। তখন খুব অনিরাপদ লাগে। পরিবার থেকেও বারবার ফোন আসে—কখন বাসায় পৌঁছাবো। সব মিলিয়ে পড়াশোনা আর নিরাপত্তা—দুই দিক থেকেই চাপের মধ্যে আছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই ও চুরির ঘটনা বেড়েছে। অনেকেই ঝামেলা এড়াতে থানায় অভিযোগ করেন না, ফলে প্রকৃত চিত্রটি আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মঞ্জুরুল আলম জানান, চুরি, ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে এবং তা আরও জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় টহল কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তবে লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে আলাদা কোনো বিশেষ কর্মসূচি না থাকলেও বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff