একুশে সিলেট ডেস্ক
সিলেটকে আধুনিক, নান্দনিক ও টেকসই পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানিয়েছেন, সুপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই সিলেটের দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নগরভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক উন্নয়ন বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সিলেটকে একটি “ভাইব্রেন্ট সিটি” হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রাণবন্ত পরিবেশ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয় থাকবে। এ লক্ষ্য অর্জনে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
একটি টেকসই নগর গঠনে জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সিলেটের প্রায় ১০ লাখ নাগরিককে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে পারলে একটি বাসযোগ্য ও নান্দনিক নগর গড়ে তোলা সম্ভব। পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
নগরীর অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে নিচু এলাকাগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, তারেক রহমান-এর সিলেটের প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে এবং নগরীর উন্নয়নে তিনি সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। “গ্রিন ও ক্লিন সিটি” গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, সিসিক সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কারিগরি সেশনে প্রকৌশলী তন্ময় চাকি জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি উপস্থাপনা দেন। স্থপতি শাকুর মজিদ লালদিঘির পাড় সুপার মার্কেটের নকশা এবং স্থপতি ইন্তেখাব হোসেন নগরভবনের প্রস্তাবিত ইন্টেরিয়র ডিজাইন উপস্থাপন করেন। এছাড়া চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন সহকারী প্রকৌশলী অংশুমান ভট্টাচার্য্য।
অনুষ্ঠানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে সূচনা করা হয়।
Leave a Reply