একুশে সিলেট ডেস্ক
সিলেটে জ্বালানি তেলের ডিপোগুলোতে নিরাপত্তা বেষ্টনি জোরদারে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। মজুতদারি, নাশকতা ও সরবরাহে বিঘ্ন এড়াতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা জারির পর পরই বিজিবির সদস্যরা দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট ও পার্শ্ববর্তী মৌলভীবাজারসহ দেশের মোট ১৯টি জ্বালানি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি স্থানে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে সদস্যরা টহল ও সার্বিক তদারকি করছেন। পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সিলেটের পদ্মা ও মেঘনা ডিপোতে দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য কয়েক দিন ধরেই দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে একইদিন সিলেটসহ দেশের সব পেট্রোল পাম্পে নজরদারি ও তদারকি জোরদার করতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া ডিপোর নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধেও জোর তৎপরতা চলছে। সীমান্ত এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশনে পণ্যবাহী যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে গুজব ঠেকাতে এবং পাম্প পর্যায়ে সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনও ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে তদারকির জন্য ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ মজুত বা কারসাজির তথ্য দিলে পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
১৯টি তেল ডিপোতে বিজিবি:
জ্বালানি তেল মজুত প্রতিরোধ, বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে সিলেটসহ দেশের ১৯টি ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বাড়ায় অননুমোদিতভাবে জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা প্রতিরোধ, জ্বালানি তেল বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে মোতায়েন কার্যক্রম একটি সুপরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিট সদর থেকে দূরবর্তী স্থানে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নিরাপদ স্থানে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে।
গত ২৫ মার্চ সকাল থেকে ঢাকা জেলায় ১টি, কুড়িগ্রাম জেলায় ২টি, রংপুর জেলায় ৩টি, রাজশাহী জেলায় ৩টি, সিলেট জেলায় ২টি, মৌলভীবাজার জেলায় ৩টি, কুমিল্লা জেলায় ৩টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১টি এবং সুনামগঞ্জ জেলায় ১টি ডিপোতে সর্বমোট ৯টি জেলায় ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
মোতায়েন করা সদস্যরা অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নিয়মিত তদারকি, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, অবৈধ জ্বালানি মজুত ও বিক্রয় প্রতিরোধ এবং নাশকতা প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
দায়িত্বাধীন ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করছে। সংশ্লিষ্ট ডিপো এলাকায় বিজিবির দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে আস্থা বাড়াতে কাজ করছে বিজিবি।
এছাড়াও, সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে সীমান্তে অতিরিক্ত টহল পরিচালনা, নৌ টহল জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি-রফতানিতে ব্যবহৃত ট্রাক-লরিসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়মিতভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে।
ট্যাগ অফিসার:
সিলেটসহ দেশের সব পেট্রোল পাম্পে নজরদারি ও তদারকি জোরদার করতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে তদারকি ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে ২৭ মার্চ অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিলেটসহ দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হবে। এসব কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করবেন।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। অন্যদিকে এসব মহানগর ছাড়া জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার পেট্রোল পাম্পের জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসাররা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন এবং জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেবেন।
Leave a Reply