সর্বশেষ :
বেনজীরের গ্রেপ্তারের খবরে পরীমনির ‘মজা’ পুশ ইনে এত আগ্রহ থাকলে শুভেন্দুকে পাঠিয়ে দিন, তার বাড়ি বরিশাল প্রেমিকার সঙ্গে বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে সমালোচনায় ট্রুডো নগরীর প্রত্যেকটি পাড়া-মহল্লার রাস্তা সম্প্রসারণ করছি: সিসিক প্রশাসক কয়েস লোদীসহ দেশের ৮ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব গ্রহণ শাপলা ট্র্যাজেডি থেকে পরীমণি: গত এক দশকে বেনজীর ছিলেন সমালোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রে মৌলভীবাজারের শিক্ষার্থী সাজ্জাদুলের উদ্ভাবনের প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ১ উইকেটে হার বাংলাদেশের গোলাপগঞ্জে হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা জিলু পুলিশের জালে ৪ থানার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ রাজু এবার বিশ্বনাথ পুলিশের জালে, রয়েছে ১৩টি মামলা!

জামানের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ : পূণ্যভূমিতে ‘আপসহীন’ নেত্রী বেগম জিয়ার শেষ পদধূলি

জামানের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ : পূণ্যভূমিতে ‘আপসহীন’ নেত্রী বেগম জিয়ার শেষ পদধূলি

স্টাফ রিপের্টার
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ একটি অবিস্মরণীয় দিন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার তথাকথিত রায়ের মাত্র তিন দিন আগে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবনের এক কঠিনতম মুহূর্তে পা রেখেছিলেন আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে। সেই সফরটি কেবল মাজার জিয়ারত ছিল না, বরং তা ছিল তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এক অকুতোভয় নেত্রীর জনসমুদ্রে মিশে যাওয়ার শেষ ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আজ তাঁর প্রয়াণে সিলেটের রাজপথে সেই রোমাঞ্চকর ও আবেগঘন স্মৃতিগুলো বারবার ফিরে আসছে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মনে।

৫ ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন বেগম জিয়া। ঢাকা থেকে সিলেট—পুরো মহাসড়ক তখন যেন এক রণক্ষেত্র। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাস্তার দু’পাশের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ভৈরব ও হবিগঞ্জে দফায় দফায় পুলিশি বাধা, টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জের শিকার হন নেতাকর্মীরা। তবুও প্রিয় নেত্রীকে এক নজর দেখতে রাস্তার দু’পাশে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে নেত্রীর গাড়িবহর লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটলেও তিনি এগিয়ে চলেন অটল হিমালয়ের মতো।

সিলেট শহরে প্রবেশের সময় উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ ঘোষণা দিয়েছিল তারা বেগম জিয়ার গাড়িবহর সার্কিট হাউসে ঢুকতে দেবে না।
তৎকালীন মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জামিল আহমদ এবং মহানগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম তুষারের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা লিফলেট বিতরণ করে এবং দেওয়ালে লাল রঙের পোস্টার সাঁটিয়ে খালেদা জিয়াকে বয়কট করার ডাক দেয়। তারা সশস্ত্র অবস্থায় বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেয়।

এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তৎকালীন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান—যার ওপর তখন ৭০টির বেশি মামলা ও ক্রসফায়ারের হুমকি ছিল—তিনি নেত্রীর ফোন পাওয়ার সাথে সাথে তাঁর অনুসারীদের নিয়ে রাজপথে নামেন। জামান আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে ৪৫ মিনিটের আল্টিমেটাম দিয়ে ঘোষণা করেন ‘শহর খালি না হলে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে’। জামানের এই আল্টিমেটামে নড়েচড়ে বসেন আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম বদর উদ্দিন আহমদ কামরানসহ শীর্ষ নেতারা। শেষ পর্যন্ত তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এরপর সামসুজ্জামান জামান বলয় ও বিএনপি নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে নেত্রীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে সার্কিট হাউসে পৌঁছে দেন। নেত্রী সেদিন জামানকে তাঁর সাহসী ভূমিকার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।

সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় হযরত শাহজালাল (রহ.) এবং রাত সোয়া ৭টায় হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন বেগম জিয়া। মাজারের নারী ইবাদতখানায় বসে তিনি পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও ফাতেহা পাঠ করেন।

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মসজিদে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন সিলেট জেলা বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মোল্লারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব শেখ মোহাম্মদ মকন মিয়া।

হাজারো নেতাকর্মী তখন মাজারের বাইরে কান্নায় ভেঙে পড়েন, কারণ সবাই আঁচ করতে পারছিলেন ৮ ফেব্রুয়ারি কী ঘটতে যাচ্ছে। মাজার জিয়ারত শেষে সার্কিট হাউসে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন তিনি। তাঁর সেই নির্দেশ আজও নেতাকর্মীদের কানে বাজে: যে কোনো পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ থেকে মোকাবিলা করতে হবে।

গণমাধ্যমকর্মী নিজাম উদ্দিন টিপু সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, যখন বেগম জিয়ার গাড়িবহর মাজারের দিকে যাচ্ছিল, তখন সামসুজ্জামান জামান বলয় ও বিএনপি নেতাকর্মীরা বিশাল শোডাউন দিয়ে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে আসেন পরে মাজার জিয়ারত শেষে সামসুজ্জামান জামানের নির্দেশেই মোটর শোডাউনের মাধ্যমে হজরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় বেগম খালেদা জিয়াকে।

তিনি আরো বলেন, তৎকালীনর আওয়ামী লীগ সরকার ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়। তার আগে ৫ ফেব্রুয়ারি ছিল তার শেষ সিলেট সফর। কেবলমাত্র মাজার জিয়ারত করতেই তিনি সিলেটে এসেছিলেন। এরপর তিনি আর তিনি সিলেট আসেননি।

সেই রাতে ১০টার দিকে তিনি সিলেট ত্যাগ করেন। সেটিই ছিল সিলেটের পবিত্র মাটির সঙ্গে তাঁর শেষ সরাসরি সাক্ষাৎ। আজ তাঁর প্রয়াণে সেই ২০১৮ সালের স্মৃতিগুলো সিলেটের রাজপথে এক বিষণ্ণ হাহাকার হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সিলেটবাসী চিরকাল মনে রাখবে সেই আপসহীন নেত্রীকে, যিনি সংকটের মুখেও মাথা উঁচু করে শাহজালালের দরবারে লুটিয়ে পড়েছিলেন স্রষ্টার কাছে পানাহ চাইতে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff