বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ম্যাচ ছড়ালো রোমাঞ্চ ও নাটকীয়তা। সুইসদের বিপক্ষে ম্যাচে হট ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল সুইসরা। শুরুতেই গোল করে এগিয়েও গিয়েছিল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। লিওনেল মেসির কর্ণার কিক থেকে দুর্দান্ত এক হেডারে জালের ঠিকানা খুঁজে নিয়ে ম্যাচের ১০ মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এরপর প্রথমার্ধে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে ইউরোপিয়ানরা।
গোলের পর দশ জনের দলে পরিণত হলেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে এবং যোগ করা সময়ের ৯ মিনিটে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আর জালের দেখা পেতে দেননি গ্রানিত শাকারা। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মুহূর্মুহু আক্রমণ সামলে ম্যাচ টাইব্রেকারে নেওয়ার আভাস দিচ্ছিল সুইসরা। তবে ১১ তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত এক শটে লিড পায় স্কালোনির শিষ্যরা। পরে আরও এক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। এ দুজনের গোলের শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের জয়ে সেমিফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেছেন মেসিরা।
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে সুইসদের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই গোছানো ফুটবল খেলছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় শুরুতেই গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ১০ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিয়েছেন ম্যাক আলিস্টার। মেসির কর্নার থেকে পাওয়া বলকে হেডে জালের ঠিকানা দেখান এই লিভারপুল মিডফিল্ডার।
এদিকে শুরতেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া সুইসরা ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে লড়াই করেছে। তবে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ড এবং রক্ষণভাগ সুইজারল্যান্ডের আক্রমণ সফল হতে দেয়নি।
ফলে প্রথমার্ধে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের খুব বেশি পরীক্ষা নিতে পারেনি সুইসরা। বল দখলে বেশ এগিয়ে থাকলেও প্রথম ৪৫ মিনিটে গোলের লক্ষ্যে কেবল ১টিই শট নিতে পেরেছে সুইসরা। বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে সেসব কাজে লাগাতে পারেনি ইউরোপিয়ান দলটি।
এদিকে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর পর সমতায় ফিরতে আবার মরিয়া লড়াই শুরু করে সুইজারল্যান্ড। ম্যাচের ৫০ মিনিটে দারুণ এক সুযোগও পেয়েছিল দলটি। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দারুণ ডিফেন্ডিং এবং নিজেদের ফিনিশিং ব্যর্থতায় গোলটি পায়নি সুইসরা।
এরপর ৬৭ মিনিটে গোলের খাতা খোলে সুইসরা। রুণ এক আক্রমণে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে সমতায় ফিরিয়েছেন ড্যান এনদোয়ে। দলীয় আক্রমণে রিকার্দো রদ্রিগেজের পাস থেকে গোলটি করেন এনদোয়ে। তবে সমতায় ফেরার পরই দুঃসংবাদ পায় ইউরোপিয়ান দলটি।
৭২ মিনিটে ডাইভ দিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের পর লাল কার্ড দেখেন ব্রিল এমবোলো। এর ফলে তাঁকে ফাউলের অভিযোগে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে দেখানো হলুদ কার্ডটি বাতিল হয়ে যায়।
এদিকে প্রতিপক্ষ দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পর সুইসদের উপর ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটের বাকি সময়টা একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। তবে জমাট রক্ষণে গোলের দেখা পায়নি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। শেষ পর্যন্ত তাই ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।
অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের প্রথমার্ধেও সুইজারল্যান্ডের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ শাণিয়েছেন মেসিরা। তবে কোনোভাবেই সুইস রক্ষণ ভেঙে গোলের দেখা পাচ্ছিল না দলটি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ডেডলক ভাঙেন আলভারেজ। লোপেজের পাস থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে জালের দেখা খুঁজে নেন আর্জেন্টাইন এই স্ট্রাইকার। লিড নেওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে আরও এক গোল করেন মার্তিনেজ। এই গোলে ৩-১ ব্যবধানের জয়ে সেমিফাইনালে খেলা নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
