স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে পথরোধ করে দেশীয় অস্ত্রের মুখে এক সংবাদকর্মীকে রক্তাক্ত জখম ও তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১৪ মে জৈন্তাপুর মডেল থানাধীন চিকনাগুল ইউনিয়নের তামাবিল মহাসড়কের শাহজালাল ডিগ্রি কলেজ গেট সংলগ্ন মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মো. রায়হান হোসেন (২৯) জাতীয় সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। ঘটনায় তিনি জৈন্তাপুর মডেল থানায় জুয়েল আহমদ (৩০) নামের এক ব্যক্তি ও আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু কেনার উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন সকালে জুয়েল আহমদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন রায়হান হোসেন। জুয়েল তাকে পীরের বাজার এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করতে বলেন। পরে রায়হান তার সঙ্গে থাকা কোরবানির পশু ক্রয়ের ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে সেখানে পৌঁছান।
একপর্যায়ে জুয়েলের প্ররোচনায় নিজের মোটরসাইকেল রেখে তার মোটরসাইকেলে করে চিকনাগুল বাজারে যান রায়হান। বাজার ঘুরে ফেরার পথে নির্জন এলাকায় পৌঁছালে জুয়েল একটি ফোনকল রিসিভ করার অজুহাতে মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশা তাদের পথরোধ করে।
সিএনজি থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও রডসজ্জিত ৪-৫ জন যুবক বের হয়ে রায়হান হোসেনকে ঘিরে ফেলে। হামলাকারীরা তার পেটে ধারালো চাকু ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। রায়হান আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত জুয়েল আহমদ তাকে দুষ্কৃতিকারীদের মুখে ফেলে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তার ডান পায়ের হাঁটু ও কাঁধে গুরুতর জখম হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ভর্তি ব্যাগ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার পর দুর্বৃত্তরা তাকে একটি সিএনজিতে তুলে শুক্রবাড়ি বাজার সংলগ্ন নির্জন স্থানে ফেলে যায় এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিলে সপরিবারে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে স্থানীয় পথচারীদের সহায়তায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে খাদিমপাড়াস্থ সরকারি ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. রায়হান হোসেন বলেন, আমি পরিচিত একজনের কথায় বিশ্বাস করে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে আমাকে ফাঁদে ফেলে হামলা চালানো হয়েছে। আমি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
গণমাধ্যমকর্মীরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, একজন কর্মরত সংবাদকর্মীর ওপর এ ধরনের নৃশংস হামলা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপরও হুমকি। অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply