একুশে সিলেট ডেস্ক
সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের কল্লগ্রাম এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধ ও খাল ভরাটের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ সোমবার ভ্রাম্যামাণ আদালত পরিচালনা করে মো. আব্দুল মন্নান নামের এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের কারাদন্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভ্রাম্যামাণ আদালত পরিচালনা করেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোশনূর রুবাইয়াং। অভিযানে আরো নেতৃত্ব দেন সিলেট সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকার মামুনুর রশীদ।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবৈধভাবে কল্লগ্রামের নিকটবর্তী কৃষি জমির উপরিভাগের টপ সয়েল কর্তন করে হৈরখাল ভরাট করে, এর ফলে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। এছাড়া খাল ভরাটের কারণে নিকটবর্তী জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে স্থানীয় পরিবেশ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
উক্ত অপরাধের জন্য মো. আব্দুল মন্নানকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ লঙ্ঘনের দায়ে ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করা হয়।
অভিযানকালে আরও দেখা যায় যে, মো. আব্দুল মন্নান পার্শ্ববর্তী মালিকানাধীন জমির সীমানা পিলার অপসারণ করেছেন। ঘটনাস্থলে জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অভিযুক্ত ব্যক্তির নামে উক্ত স্থানে কোনো বৈধ মালিকানা ও মাটি ভরাট/মাটি কর্তনের কোন অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে একটি সিলেট সিটি কর্পোরেশন এবং অপরটি উপজেলা পরিষদ, সিলেট সদর, সিলেট এর অনুকূলে বিলিবন্দেজ প্রদান করা হয়েছে।
জনস্বার্থে পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষিজমি রক্ষা এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াং জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জৈনক আব্দুল মন্নানকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ লঙ্ঘনের দায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত ২ টি ড্রেজার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১ টি সিলেট সিটি কর্পোরেশন এবং অপরটি উপজেলা পরিষদের অনুকূলে বিলিবন্দেজ প্রদান করা হয়েছে। অবৈধভাবে মাটিকাটা বন্দ করতে জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
Leave a Reply