দপ্তরে দপ্তরে অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় পৈতৃক মালিকানাধীন টিলা ও পারিবারিক কবরস্থান কেটে সমতল করার অভিযোগ উঠেছে আবদুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তি ও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (০১ এপ্রিল) উপজেলার ৬নং ফতেপুর ইউনিয়নের লামা ফতেপুর গ্রামের মৃত আবদুর নুরের ছেলে মাওলানা ইমাম উদ্দিন এই অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে তিনি গোয়াইনঘাট থানায়ও একই বিষয়ে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন।
অভিযোগে মৃত সিফত উল্লাহর ছেলে আবদুর রাজ্জাক, তাঁর ছেলে নোমান আহমদ, মিজান আহমদ, এমরান আহমদ, মিনহাজ আহমদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত আবদুর রাজ্জাক অভিযোগকারী মাওলানা ইমাম উদ্দিনের আপন সৎ চাচা।
মাওলানা ইমাম উদ্দিন অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি কর্মস্থল থেকে বিভিন্ন উৎসব ও ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে তাঁদের যৌথ মৌরসী সম্পত্তিতে অবস্থিত দাদা হাসন আলী মুন্সির কবর জিয়ারত করেন। এবারের ঈদুল ফিতরে বাড়িতে গিয়ে তিনি দেখেন, তাঁদের পারিবারিক ওই বিশাল টিলাটি সম্পূর্ণ কেটে সমতল করে ফেলা হয়েছে। সেখানে শুধু একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে লেখা ‘হাসন আলী মুন্সির কবরস্থান’।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জায়গাটি দখলের উদ্দেশ্যে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতের আঁধারে পেলোডার মেশিন দিয়ে টিলা ও কবরস্থানটি কেটে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে ইমাম উদ্দিনের বড় ভাই সাংবাদিক ইসলাম আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। অভিযোগকারীর দাবি, কবরস্থান উচ্ছেদ ও টিলা কাটার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
মাওলানা ইমাম উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, তাঁর চাচার ছেলেরা অত্যন্ত উশৃঙ্খল প্রকৃতির। পবিত্র রমজান মাসে একই বাড়ির বাসিন্দা মনতাজ মিয়ার ঘরে ঢুকে তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে মারধর করে টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার একটি অভিযোগও গোয়াইনঘাট থানায় দিয়েছেন প্রতিবেশী শামিমা বেগম।
অভিযোগকারী মাওলানা ইমাম উদ্দিন একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি। তিনি সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে বিএ (অনার্স) ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তাঁর পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে মেজো ভাই সাংবাদিক ইসলাম আলী সিলেট জেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। অন্য দুই ভাই সিলেটের বহুল প্রচারিত ‘দৈনিক শ্যামল সিলেট’ ও ‘দৈনিক সবুজ সিলেট’ পত্রিকায় কর্মরত।
ইমাম উদ্দিন বলেন, আমরা একটি শান্তিপ্রিয় ও শিক্ষিত পরিবার। আমাদের ভাইয়েরা সংবাদপত্রে কাজ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেন। কিন্তু আমাদের নিজের পরিবারেই এমন বেআইনি কাজ হওয়ায় আমরা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি। আমার চাচা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছেন।
টিলা কাটা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে কবরস্থান উচ্ছেদের এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেছেন, টিলা ও পারিবারিক কবরস্থান কাটার অভিযোগটি আমরা তদন্ত সাপক্ষে গুরুত্বসহকারে দেখব। তিনি আরো বলেন অপরাধীরা যতই প্রভাবশালী হোক তাঁদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
Leave a Reply