সিলেটের বিয়ানীবাজারে নবম শ্রেণির ছাত্রী রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া তার বাবা আবু বক্কর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আবু বক্করকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে আবু বক্কর জানান, মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন। তিনি দাবি করেন, একাধিকবার মেয়েকে ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু রিয়া তার কথা না মানায় তিনি হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজের সময় বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামের নানাবাড়ির পুকুরঘাটে রিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যান তিনি। পরে রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রায়কা আক্তার রিয়া গোলাপগঞ্জ উপজেলার রায়গড় গ্রামের সিএনজি অটোরিকশাচালক আবু বক্করের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
ঘটনার পর রিয়ার মা বিয়ানীবাজার থানায় স্বামী আবু বক্করকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, রিয়ার সঙ্গে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় এক বছর আগে রিয়া ওই যুবকের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল। এক মাস পর পরিবার তাকে ফিরিয়ে আনে। ছেলেটি অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং পরিবারের দাবি অনুযায়ী বখাটে হওয়ায় তাদের বিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে মেয়েকে পরিবারের তত্ত্বাবধানে রাখতে প্রায় তিন থেকে চার মাস আগে তাকে বিয়ানীবাজার উপজেলার ইনাম গ্রামে তার নানাবাড়িতে রাখা হয়। তবে সেখান থেকেও স্থানীয় এক কিশোরের মাধ্যমে তিনি পূর্বের প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
