দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-২০৮ ফ্লাইটটি রোববার (৫ জুলাই) ২৬৮ জন যাত্রী নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এদের মধ্যে ২২৭ জন সিলেটে এবং ৪১ জন ঢাকায় নামেন।
ফ্লাইটটি বিমানবন্দরে পৌঁছালে শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যাত্রীদের স্বাগত জানান।
এর আগে শনিবার (৪ জুলাই) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-২০৭ ফ্লাইটটি ১৯২ জন যাত্রী নিয়ে সিলেট থেকে ম্যানচেস্টারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ওই ফ্লাইটে ১৭১ জন সিলেটের এবং ২১ জন ঢাকার যাত্রী ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিনের বিরতির পর এই রুট পুনরায় চালু হওয়ায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী, বিশেষ করে ম্যানচেস্টারে বসবাসরত সিলেটিদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। তাদের মতে, এই রুট শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়; এটি প্রবাসীদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন।
জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং বিমান বাংলাদেশের পরিচালক ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট পুনরায় চালুর দাবি তোলা হয়। পরে ৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এ রুট পুনরায় চালু করা হবে।
নতুন সরকার গঠনের চার মাসের মাথায় সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হুমায়ুন কবির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বহু প্রতীক্ষিত সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।
ফ্লাইটটি পুনরায় চালু হওয়ায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সিলেটিদের মধ্যে স্বস্তি, আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এ রুটে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
