উদ্ধারে জটিলতা
স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উৎমা সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর নিখোঁজ সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামের এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ সীমান্তের ওপারে পড়ে আছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। ১ এপ্রিল (বুধবার) এই ঘটনা ঘটলেও সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিথর দেহটি ওপারে পড়ে থাকায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম।
নিহত সাদ্দাম হোসেন উপজেলার উত্তর রণিখাই ইউনিয়নের লামাগ্রামের বাসিন্দা কুটু মিয়ার ছেলে।
সাদ্দামের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, গত বুধবার সাদ্দাম আরও কয়েকজনের সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। সাদ্দামের সঙ্গে যাওয়া তিনজনের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন। সাদ্দামের বন্ধু আবু বক্কর শুক্রবার রাতে নিহতের পরিবারকে জানান যে, সাদ্দামকে কোমর ও পায়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং তার মরদেহ ভারতের অভ্যন্তরেই পড়ে আছে।
নিহত সাদ্দামের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন আর্তনাদ করে বলেন, ১ এপ্রিল সাদ্দাম বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় মোবাইল সাথে নেয়নি। আমরা ভেবেছিলাম সে হয়তো কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে গেছে। পরে জানতে পারি অন্যদের সঙ্গে সে ভারতে গিয়েছিল। আমার ভাইকে কোমর ও পায়ে গুলি করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা এখন অন্তত তার মরদেহটা ফেরত চাই।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার নিখোঁজ সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। যেহেতু ঘটনাটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঘটেনি, তাই তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ৫ এপ্রিল বিজিবি প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১ এপ্রিল বিকেলে ৪-৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি সুপারি চুরির উদ্দেশ্যে ভারতের অভ্যন্তরে রাজন টিলা নামক খাসিয়া পল্লীতে প্রবেশ করে। সেখানে স্থানীয় খাসিয়াদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সাদ্দাম হোসেন নিখোঁজ হন। বিজিবি আরও জানায়, নিখোঁজ সাদ্দাম হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে ৪ এপ্রিল কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
সিলেট বিজিবি-৪৮ ব্যাটালিয়ন বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান শনাক্তকরণে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করতে সচেতন করা হচ্ছে।
Leave a Reply