একুশে সিলেট ডেস্ক
সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন উমাইরগাঁওয়ে আরবি শিক্ষক শোয়েবুর রহমান শিহাব (৩০) হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। গৃহকর্ত্রী ও তাঁর মেয়ের সাথে ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ এবং প্রবাসে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক নারীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— খালেদা বেগম (৩২) ও আব্দুল মতিন (৪৫)। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে শাহপরান থানাধীন সোনারপাড়া এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) তাঁরা আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
সিলেট মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত শিহাব ২০২৩ সাল থেকে উমাইরগাঁও এলাকার প্রবাসী কামরুল ইসলামের স্ত্রী খালেদা বেগমের বাসায় সন্তানদের আরবি পড়াতেন। গৃহশিক্ষক হিসেবে থাকার সুবাদে খালেদা বেগমের সাথে শিহাবের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। স্বামী প্রবাসে থাকায় শিহাবই বাসার যাবতীয় বিষয় দেখাশোনা করতেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, শিহাব খালেদা বেগমকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং শিবগঞ্জ উপশহর এলাকায় জমি কেনার কথা বলে ২০ লাখ টাকা বায়না করান। পরবর্তীতে পর্তুগাল ও লন্ডনে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে খালেদা বেগমের স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির অর্থসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন শিহাব। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও বিদেশে নিতে ব্যর্থ হয়ে তিনি একটি ‘ভুয়া লন্ডন গমনের’ নাটক সাজিয়ে খালেদা ও তাঁর সন্তানদের নিয়ে সিলেট শহরের একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন।
একপর্যায়ে টাকা ফেরত এবং লন্ডনে যাওয়ার বিষয়ে চাপ দিলে শিহাব খালেদা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। এর মধ্যেই খালেদা বেগমের কিশোরী মেয়ের সাথেও শিহাব অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। এসব ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে খালেদা বেগম ও তাঁর সহযোগীরা শিহাবকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিহাবকে গত সপ্তাহে উমাইরগাঁও বাদেশ্বর নদীর পাশে কুড়াইল হাওড়ের একটি নির্জন ঝোপঝাড়ে নিয়ে হত্যা করা হয়। খুনিরা মরদেহটি বিবস্ত্র করে এবং বস্তা দিয়ে মুখসহ শরীরের অর্ধেক অংশ ঢেকে ফেলে রেখে যায়। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ অজ্ঞাতনামা হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাশের ছবি ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁর পরিচয় শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সয়াইবুর রহমান বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোনারপাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। শনিবার আদালতে তাঁরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
Leave a Reply