স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট নগরীতে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিলবোর্ডে পথচারীদের দৃষ্টিগোচর করতে একটি গাছের মাথাসহ সব ডালপালা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে নগরীর বিএনপির সহ-সভাপতি ও সিলেট মহানগরীর ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আমির হোসেনের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রাতে সিলেট নগরীর পাঠানটুলা-মদিনামার্কেট এলাকার সড়ক বিভাজকের কয়েকটা গাছের প্রধান শাখাসহ সব ডাল কাটতে বিদ্যুতের পিলারে ওঠে এক ব্যক্তি। নিচে ছিল তাদের সঙ্গী আরও কয়েক ব্যক্তি। এ সময় সড়ক বিভাজকের তিনটি গাছের সব ডালপালা ছেঁটে ফেলা হয়।
দুজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গাছের সব ডালপালা কাটার কারণ জানতে চাইলে গাছকর্তনকারীরা জানান, বিলবোর্ডে তাদের নেতার ঈদ শুভেচ্ছা ঢাকা পড়ছিল, তাই গাছের ডাল কাটা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের অনুমতি আছে কি না জানতে চাইলে তারা এড়িয়ে যান। এরপর তারা আরও সাতটি গাছের ডালপালা যত্রতত্রভাবে ছেঁটে ফেলে।
কেবল মদিনামার্কেট এলাকায় নয়, সিলেট নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়ক বিভাজকের গাছ এবং ডালপালা কাটা চলছে ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার-ফেস্টুন দেখানোর জন্য। গাছ কাটার এ কাজটি শ্রমিক দিয়ে করা হচ্ছে। যার ফলে সড়ক বিভাজকে থাকা ওই সব গাছের বেড়ে উঠার প্রক্রিয়া বিনষ্ট হচ্ছে।
সরেজমিনে মদিনামার্কেট এলাকায় দেখা গেছে, বিলবোর্ডে মো. আমির হোসেনের বড় করে ছবি দেওয়া আছে। তার উপড়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ছবি। পাশেই বড় করে দেওয়া আছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি। তার ওপরে ছোট করে দেওয়া বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি। বিলবোর্ডের ব্যনারে লেখা আছে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৯নং ওয়ার্ডসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সর্বস্তরের জনসাধারণকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।
শুভেচ্ছান্তে লেখা আছে মো. আমির হোসেন, সহ-সভাপতি মহানগর বিএনপির ও সভাপতি সিলেট মহানগরীর ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি। এসব লেখা সংবলিত বিলবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছে মাথাহীন গাছটি।
এদিকে ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো নিয়ে মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক এটিএম বেলায়েত হোসেন ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন।
তিনি লিখেন, ‘ফেস্টুন-ব্যানার লাগানোর ব্যাপারে দলের যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা কি তুলে নেওয়া হয়েছে? শহরজুড়ে শুধু ফেস্টুন আর ব্যানার! গত ১৬ বছর এমন ব্যানার-ফেস্টুন দেখে মনের ভেতর তীব্র ঘৃণা কাজ করত। সেই একই কাজ আপনারা করছেন। দলের দায়িত্বশীলদের কাছে আমার আবেদন আপনারা চাপ দিন, যেন আগামীকালের মধ্যে সিলেট শহর সব ব্যানার-ফেস্টুন মুক্ত হয়। অনথ্যায় দলীয় নির্দেশ অমান্য করে যারা ব্যানার-ফেস্টুন লাগাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা যেন নেওয়া হয়।’
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, ‘বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন দেওয়ার অনুমতি সিসিক থেকে দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা কোনো গাছ কাটার অনুমতি দেই না। কারও যদি গাছ কাটতে হয় তবে অবশ্যই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য গাছ কাটার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। তবে যদি এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ দেন আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ও সিলেট মহানগরীর ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আমির হোসেন গাছ কাটার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ঈদের শুভেচ্ছার বিলবোর্ড লাগিয়েছি। কিন্তু এখানে কোনো গাছ কাটা হয়নি। এই সড়ক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় বাস চলাচল করে । এই বাসগুলোতে ডালপালায় আটকে যায়। তাই হয়তো কেউ ডালপালা কেটে দিয়েছে। আমার পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো কাজ করা হয়নি।’
Leave a Reply